গ্লুকোমা সপ্তাহে চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা

Share

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে গ্লুকোমা পরীক্ষা। বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ ক্যাম্পেইনে বিনামূল্যে গ্লুকোমা পরীক্ষা করতে পারবেন হাসপাতালে আসা রোগীরা।

সোমবার (৯ মার্চ) জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক গোলাম মোস্তফা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় তার সঙ্গে গ্লুকোমা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইফতেখার মোহাম্মদ মুনিরসহ হাসপাতালের অন্য শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে গোলাম মোস্তফা বলেন, আজ বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস। এ দিনটিতে প্রতি বছর আমরা বিনামূল্যে গ্লুকোমা পরীক্ষা করার ক্যাম্প আয়োজন করি। এখানে আজ আসা সবাই বিনামূল্যে এ সেবা পাবেন।

তিনি বলেন, বিশ্বে প্রায় আট কোটি মানুষ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এদের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ গ্লুকোমার কারণে অন্ধত্ব নিয়ে আছেন। রোগীদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার। গ্লকোমা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে বিরাট জনগোষ্ঠী অপরিবর্তনযোগ্য অন্ধত্বের শিকার হন যা প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করতে পারলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ইফতেখার মোহাম্মদ মুনির বলেন, ‘গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ যাতে চোখের স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখের দৃষ্টি কমে যায়। একসময় রোগী অন্ধত্ব বরণ করে। এটা অনেকটা চোখের স্নায়ুগুলোতে ব্লাড প্রেশারের মত। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ থেকে ২১। তবে ২১ এর ওপরে উঠলে তা আশঙ্কাজনক।’

তিনি বলেন, ‘চোখের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও অনেক সময় গ্লুকোমার পরীক্ষা করা হয় না। ফলে লং টার্ম এ এগিয়ে এটা ক্ষতি করে। অনেক সময় চোখের ছানির অপারেশন করল গ্লুকোমা পরীক্ষা করে চিকিৎসা নেওয়া হয় না। তাই দেখা যায় ছানির অপারেশনের পরেও কেউ কেউ অন্ধত্ব বরণ করেন। তাই গ্লুকোমা বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’

 

গ্লুকোমার লক্ষণ সম্পর্কে এসময় জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রেই রোগী এ রোগের কোনো লক্ষণ অনুধাবন করতে পারেন না। চশমা পরিবর্তনের সময় কিংবা নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে চিকিৎসকের নির্ণয় করে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা যেতে পারে যেমন ঘনঘন চশমার গ্লাস পরিবর্তন হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, আলোর চারপাশে ব্যথা অনুভূত হওয়া, ছোট ছোট বাচ্চারা জন্মের পর চোখের কর্নিয়া ক্রমাগত বড় হয়ে যাওয়া বা সাদা হয়ে যাওয়া, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি।

নিয়মিত চিকিৎসায় গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও নিরাময় সম্ভব নয়। এ রোগের কারণে দৃষ্টি যতটুকু হ্রাস পেয়েছে তা আর ফিরেয়ে আনা সম্ভব নয় বলেও জানান চক্ষু চিকিৎকরা।

Share this news as a Photo Card

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

ঢাকার দুই সিটিতে টিকা দেওয়া হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এই দুই সিটিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা দেওয়া গেলে হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন...

নারীদের হৃদরোগ বাড়ছে কেন? জেনে নিন লক্ষণ ও প্রতিকার

সাধারণত মনে করা হয় হার্টের অসুখ কেবল পুরুষদেরই বেশি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে উল্টো কথা—পুরুষদের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এখন...

Related Articles

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের জন্য এআই বিষয়ক সেমিনার ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) আজ (শনিবার) সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে...

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ৩ ব্যায়াম, নিয়মিত অভ্যাস করুন আজ থেকেই

নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ক্যানসারগুলোর একটি হলো স্তন ক্যানসার।...

চীন-পাকিস্তান আমাদের চিকিৎসকদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের...

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি সেমিনার অনুষ্ঠিত

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি...

চার সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি

ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ চার সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে নতুন আহ্বায়ক কমিটি...

09 March 2020

গ্লুকোমা সপ্তাহে চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা

Shastho.TV |
ShasthoTV
ShasthoTV