Connect with us

খাদ্য ও পুষ্টি

এই গরমে তালের শাঁস কেন খাবেন? তালের শাঁসের উপকারিতা জানালেন পুষ্টিবিদ

Published

on

গ্রীষ্মের অন্যতম একটি আরামদায়ক ফল হচ্ছে কাঁচা তাল অর্থাৎ তালের শাঁস। এশিয়ার দেশেগুলোতে গরমে কাঁচা তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার হিসেবে পরিচিত। এটি গ্রীষ্মকালীন সুপারফুড হিসাবে পরিচিত। সুস্বাদু স্বাদের এই ফলটি স্বাস্থ্যের জন্যও সমান উপকারী। তালশাঁসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন কে এর মতো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এটি খাওয়ার সাথে সাথেই শরীর হাইড্রেটেড হয়। আবার পেটও ঠান্ডা হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে একটু স্বস্তি পেতে এই ফলটি খেতে পারেন। কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা।

হাইড্রেট রাখে : প্রচণ্ড তাপদাহে শরীর গরম হতে শুরু করে। এর ফলে শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে তালের শাঁস খেলে তাৎক্ষণিক শরীর হাইড্রেট হয়। ডিহাইড্রেশন থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এই ফলটি খান।

পেটের সমস্যায় উপকারী: প্রচণ্ড গরমে অনেকেই পেটের সমস্যায় ভোগেন। তালশাঁস খেলে পেট তাৎক্ষণিকভাবে ঠান্ডা হয়। এটি খেলে পরিপাকতন্ত্র শক্তিশালী হয়। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম এবং গ্যাসের সমস্যা কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারণে মানুষ খুব দ্রুত সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ তালশাঁস খান।

Advertisement

বিপাকক্রিয়া বাড়ায়: দুর্বল বিপাকক্রিয়ার কারণে ওজন বাড়তে থাকে এবং মানুষ স্থূলতার শিকার হয়। ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফলটি খেলে বিপাকক্রিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা অনুভূত হয় না।

ডায়াবেটিসে উপকারী: তালশাঁস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী। এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম, যা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে।

আরও কিছু অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা:
১) তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ শরীরে পানিশূণ্যতা দূর করতে সাহায্য। এবং সেইসঙ্গে শরীর পানির অভাব দূর করে।
২) তালে শাঁসে রয়েছে ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স যা শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপকারি।
৩) তালে শাঁসে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করতে সাহায্য করে।
৪) তালে শাঁসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
৫) অনেক সময়ে অ্যাসিডিটির ফলে বমিভাব হয় এবং খাবার বিস্বাদ লাগে। কচি তালের শাঁস এই বমিভাব দূর করতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে খাবারে অরুচিভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
৬) কচি তালের শাঁস লিভারের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৭) আপনার যদি অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা থেকে থাকে, তাহলে তা দূর করতে খান কচি তালের শাঁস।
৮) তালের শাঁসে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৯) ত্বককে সুন্দর, উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে তুলতে নিয়ম করে খান তালের শাঁস।

মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধে ভরা প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে ৮৭ কিলোক্যালরি। ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, জলীয় অংশ ৮৭.৬ গ্রাম, আমিষ .৮ গ্রাম, ফ্যাট .১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেটস ১০.৯ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .০৪ গ্রাম, রিবোফাভিন .০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন .৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম। এসব উপাদান আপনার শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা করাসহ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

লেখক : সামসুন নাহার স্মৃতি
ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিষ্ট এন্ড ডায়েটিশিয়ান
উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল, উত্তরা, ঢাকা

Advertisement
Advertisement
নির্বাচিত3 days ago

মেডিকেল-ডেন্টালের সাবেক ছাত্রদলের নেতাদের ইফতার মাহফিল

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দেশসেবার সুযোগ লাভের শুকরিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত...

প্রধান খবর3 days ago

চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল প্রতিবেদন: ১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত

বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসায় অবহেলায় ৪ জনের মৃত্যু ও একজনের ভুল প্রতিবেদন দিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করার ঘটনায় ১০ চিকিৎসকের পূর্ণ...

জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন3 days ago

নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের রোজায় যে সতর্কতা জরুরি

যাদের লো ব্লাড প্রেশার কিংবা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বটে। বিশেষ...

Advertisement