Connect with us

জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন

হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে করণীয়

হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সময় শ্বাসনালীতে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো দেখা যায়: শ্বাসনালী লাল ও ফুলে যাওয়ার ফলে সরু হয়। শ্বিাসনালীর চারপাশের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হয়ে শ্বাসনালীকে আরও সরু করে দেয়। শ্বিাসনালীতে অধিক পরিমাণ শ্লেষ্মা তৈরি হয়ে শ্বাসনালীতে বায়ুপ্রবাহ আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসা : হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা […]

Published

on

হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সময় শ্বাসনালীতে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো দেখা যায়: শ্বাসনালী লাল ও ফুলে যাওয়ার ফলে সরু হয়। শ্বিাসনালীর চারপাশের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হয়ে শ্বাসনালীকে আরও সরু করে দেয়। শ্বিাসনালীতে অধিক পরিমাণ শ্লেষ্মা তৈরি হয়ে শ্বাসনালীতে বায়ুপ্রবাহ আংশিকভাবে বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসা : হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেসব উত্তেজকের (ট্রিগার) কারণে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায়, রোগীকে সেগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং পরিহার করতে হবে। এছাড়াও সব হাঁপানি রোগীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে। ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। ঠাণ্ডা বাতাস হাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রম নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। ব্যায়াম শরীরকে ভালো রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগবালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যায়ামের সময় বা পরে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পরিহার করা সম্ভব।

ওষুধগুলো : দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যেমন_ হিাঁপানি প্রতিরোধক িহাঁপানি উপশমকারক

হাঁপানি প্রতিরোধক : যেসব ওষুধের ব্যবহার হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রতিরোধ করে তাদের হাঁপানি প্রতিরোধক বলা হয়। দুই ধরনের ওষুধ হাঁপানি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

এন্টি ইনফ্লামেটরি ওষুধগুলো : এসব ওষুধ শ্বাসনালীর প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হাঁপানি প্রতিরোধ করে। এই শ্রেণীর বহুল ব্যবহৃত বুসোনাইড, ক্লোমিথাসেন এবং ফ্লুটিকাসোন ইত্যাদি।

ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালী প্রসারক : এসব ওষুধ দ্রুত শ্বাসনালীকে প্রসারিত করে হাঁপানির তীব্রতা প্রতিরোধ করে।

Advertisement

হাঁপানি উপশমকারক : ব্রঙ্কোডাইলেটরগুলো উপশমকারক হিসেবে কাজ করে। ব্রঙ্কোডাইলেটরগুলো শ্বাসনালীকে দ্রুত প্রসারিত করে। ফলে ফুসফুসে সহজে বায়ু চলাচল করতে পারে এবং এর মাধ্যমে হাঁপানি আক্রান্ত রোগীর উপসর্গগুলো দ্রুত উপশম হয়।

দুই ধরনের ব্রঙ্কোডাইলেটর বা শ্বাসনালী প্রসারক আছে, যেমন_

ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর-যেমন : সালবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর-যেমন : ব্যামবিউটামল। এসব ওষুধ দিনে একবার ব্যবহার করতে হয়। মৃদু বা মাঝারি হাঁপানিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষণস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন : সালবিউটামল) ব্যবহার করলে কোনো ধরনের ক্লিনিক্যাল সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন : ব্যামবিউটামল) ব্যবহার করতে হবে।

হাঁপানির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : সঠিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ না করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং অকেজো হবে। শিশুদের হাঁপানির ঠিকমতো চিকিৎসা না করালে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং মায়েদের বেলায় গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

হাঁপানি চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : করটিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার ওরাল ক্যানডিয়াসিস সৃষ্টি করতে পারে। যেসব রোগী ইনহেলারের মাধ্যমে করটিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করে তাদের অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (যেমন : অসটোক্যাল/অসটোক্যাল জেধার) গ্রহণ করা উচিত। থিওফাইলিন এবং এ জাতীয় ওষুধগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং রোগীকে অবসন্ন করে দেয় বলে থিয়োফাইলিনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কোডাইলেটর-যেমন : ব্যামবিউটামল (ডাইলেটর) ব্যবহার করা উচিত।

Advertisement

ডা. এ কে এম মোস্তফা হোসেন
পরিচালক
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা।
ফোন : ০১৭১১-১৭১৬৩৪

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন2 months ago

ওষুধ খাওয়ার ভুলে অসুস্থতা

জ্বর বা মাথাব্যথা হলেই প্যারাসিটামল, অ্যালার্জির জন্য হিস্টাসিন কিংবা গ্যাসের ট্যাবলেট- এই ধরনের ওষুধগুলো আমরা হরহামেশাই খাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই।...

খাদ্য ও পুষ্টি2 months ago

শিশুদের জন্য লবণ যতটুকু দরকার

অতিরিক্ত লবণ শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা প্রদানের পাশাপাশি অল্প বয়সে রক্তচাপের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে এমন পরিমাণ লবণ রাখতে হবে যা...

জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন2 months ago

ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কেন

বয়সে টিংকু বেশ ছোট। এত ছোট যে মাঝেমধ্যে টিংকুর দাঁত পড়ে। একবার বিড়াল টিংকুকে আঁচড়ে দিল। চিকিৎসক বললেন যে র‌্যাবিসের...

Advertisement