Connect with us

হারবাল চিকিৎসা

অ্যালার্জি প্রতিরোধের প্রাকৃতিক উপায়

এ্যালার্জি শব্দটা যদিও আজ আর কারও কাছে নতুন কিছু নয়, তবুও এটা সম্পর্কে সার্বিক ধারণা থাকা সবার জন্য অতীব জরুরী। কেননা শ্বাসকষ্ট, একজিমাসহ বহু চর্মরোগের জন্য দায়ী এই এ্যালার্জি। ধুলাবালি, ফুলের রেণু, নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও ওষুধ মানুষের শরীরে প্রদাহজনিত যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সাধারণভাবে তাকেই আমরা এ্যালার্জি বলে জানি। এ্যালার্জি শব্দটা অষষড়ং ও ঊৎমড়ং […]

Published

on

এ্যালার্জি শব্দটা যদিও আজ আর কারও কাছে নতুন কিছু নয়, তবুও এটা সম্পর্কে সার্বিক ধারণা থাকা সবার জন্য অতীব জরুরী। কেননা শ্বাসকষ্ট, একজিমাসহ বহু চর্মরোগের জন্য দায়ী এই এ্যালার্জি।

ধুলাবালি, ফুলের রেণু, নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও ওষুধ মানুষের শরীরে প্রদাহজনিত যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সাধারণভাবে তাকেই আমরা এ্যালার্জি বলে জানি। এ্যালার্জি শব্দটা অষষড়ং ও ঊৎমড়ং নামক দুটি গ্রিক শব্দের সমন্বয়ে তৈরি, সম্মিলিতভাবে যার অর্থ দাঁড়ায় পরিবর্তিত প্রতিক্রিয়া।

যা অ্যালার্জি তৈরি করে
মাইট (এমন কিছু যা পুরনো কাপড়ে জন্মায়), সিগারেটের ধোঁয়া হ কুকুর, বিড়ালের পশম, প্রস্রাব ও লালা হভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া, ফুলের রেণু। এছাড়া বিশেষ কোন খাবার, ঘরের ধুলাবালি, হরমোন ইনজেকশন, তুলা বা পাটের আঁশ, চুলের কলপ, রং, পোকা মাকড়ের হুল, স্যাঁতসেঁতে কার্পেট ইত্যাদি। তবে মনে রাখবেন এ সবে সকলেরই যে এ্যালার্জি হবে তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু জিনিসে কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে।

অ্যালার্জিতে আক্রানত্ম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
শরীরের যে সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহজে এ্যালার্জিতে আক্রানত্ম হয় সেগুলোর নাম ও উপসর্গ নিম্নরূপ_
আক্রানত্ম অঙ্গউপসর্গনাকনাসারন্ধ্রের ঝিলিস্ন বা আবরণ ফুলে চোখচোখ লাল হওয়া এবং চুলকানোকোনকান বন্ধ হয়ে যাওয়া, ব্যথা করা, কানে কম শোনাত্বকপ্রদাহজনিত চুলকানি বা একজিমা, হাইভসফুসফুসশ্বাস প্রশ্বাস দ্রম্নত হওয়া, শোঁ শোঁ শব্দ করা

এ্যালার্জির ঝুঁকি ও কারণ
শরীরে এ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার যে অস্বাভাবিক প্রবণতা তার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের ভিত্তির ওপর জোর দিয়ে থাকেন। যেমন_
বংশগত কারণ : দেখা যায় এ্যালার্জি আক্রানত্ম বাবা-মার সনত্মানেরাও এ্যালার্জিতে আক্রানত্ম হয় এবং তাদের এ্যালার্জিতে আক্রানত্ম হওয়ার প্রবণতা নন-এ্যালার্জিক বাবা-মার এ্যালার্জিক সনত্মান অপেৰা অনেক বেশি প্রকট। বাবা-মা কেউ এ্যালার্জিতে আক্রানত্ম না থাকলেও সনত্মানের মাঝে ১৫% আশঙ্কা থেকে যায়। বাবা-মা কেউ যদি এ্যালার্জিতে আক্রানত্ম থাকে তবে সনত্মানের ৩০% আশঙ্কা থাকে কিন্তু উভয়েই আক্রানত্ম থাকলে তা বেড়ে ৬০%-এর অধিক দাঁড়ায়।
পরিবেশগত কারণ : ঋতুজনিত কারণে (বিশেষ করে শীতকালে) বাতাসে যখন ফুলের রেণু বেশি থাকে তখন এ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বাতাস দূষণের পরিমাণ বেশি হওয়াতে সেখানে এ্যালার্জির প্রকোপও বেশি।

Advertisement

এ্যালার্জিজনিত সমস্যা ও তার উপসর্গ
এ্যালার্জিক রাইনিটিস : সাধারণভাবে যেটা হে ফিভার (যবু ভবাবৎ) নামে পরিচিত। এ ধরনের এ্যালার্জিতে রোগীর অসম্ভব রকম হাঁচি হয়। এ জন্য এর নাম এ্যালার্জিজনিত হাঁচি। বাতাসে অত্যধিক মাত্রায় ফুলের রেণু এর প্রধান কারণ। এ ছাড়াও ধূলিকণা, কুকুর ও বিড়ালের লোম, ছত্রাকের কারণেও এটা হতে পারে। নিশ্বাসের সঙ্গে এই জাতীয় জীবাণু যখন নাকের অভ্যনত্মরে প্রবেশ করে, প্রদাহজনিত কারণে অভ্যনত্মরীণ টিসু্যগুলো নানা ধরনের উপসর্গ প্রকাশ করে। নাক সংলগ্ন কান, সাইনাস এবং গলা ও এই কারণে আক্রানত্ম হয়।

উপসর্গ
(ক) নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরা, (খ) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, (গ) নাক চুলকানো, (ঘ) অসম্ভব রকম হাঁচি, (ঙ) কান ও গলা চুলকানো, খুসখুস করা ইত্যাদি।
এ্যালার্জিক এ্যাজমা বা হাঁপানি : কষ্টদায়ক এই এ্যাজমার বিভিন্ন কারণের মধ্যে এ্যালার্জি অন্যতম। শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত এ সমস্যায় ফুসফুল ও এর অভ্যনত্মরভাগে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহ ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের পথকে সঙ্কীর্ণ করে। ফলে বাতাস ঢুকতে ও বেরম্নতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
ভিটামিন সি-এর উৎস : কাঁচা মরিচ, বাঁধাকপি, আলু, লেবু, বাতাবী লেবু, কমলা লেবু, টমেটো, আঙ্গুর, পেয়ারা, কামরাঙ্গাসহ বিভিন্ন টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
ভিটামিন এ এবং জিংক : এরা উভয়েই এ্যালার্জি উপশমে সহায়ক যা পাকস্থলীসহ অন্যান্য প্রদাহজনিত স্থানের প্রদাহ কমায়।
ভিটামিন এ-এর উৎস : বাঁধাকপি, ব্রকলি, লেটুস পাতা, পালংশাক, টমেটো, মরটশুঁটি, গাজর, কুমড়া, মিষ্টিআলু, ধনিয়াপাতা, পীচ, কলা, পেঁপে, তরমুজ, ভুট্টা ইত্যাদি।
জিঙ্কের উৎস : জিঙ্কের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস হলো ওয়স্টার মাশরম্নম যা এখন আমাদের দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। অন্যান্য যে সব খাদ্যে জিঙ্ক বিদ্যমান সেগুলো হলো মিষ্টি কুমড়ার বীজ, শিম বীজ, বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি। প্রাণিজ জিঙ্কের জন্য ভাল উৎস হলো মুরগির মাংস। এ ছাড়া শামুক, ঝিনুক ইত্যাদিতেও প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক পাওয়া যায়।
ক্যারোটিনয়েড : ক্যারোটিনয়েড হলো উদ্ভিদের মধ্যস্থিত রঞ্জক বা রঙিন পদার্থ। এ সবের মধ্যে ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, লুটিন, লাইকোপেন, ক্রিপটোজেন্থিন এবং জিজেন্থিন আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। এগুলো এ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে কাজ করে।
উৎস : সবুজ, হলুদ অর্থাৎ রঙিন শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়। যেমন গাজর, মিষ্টি কুমড়া, হলুদ, পালংশাক, ডাঁটা শাক ইত্যাদি।
ট্রিপটোফেন সমৃদ্ধ খাবার যা সেরোটোনিনে পরিবর্তিত হয় তা এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন : গরম্নর মাংস, চিংড়ি মাছ ইত্যাদি।
অন্যান্য
ঋষি মাশরম্নম : এই মাশরম্নমের এ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া কমানোর এক অসাধারণ ৰমতা আছে। এটা হিস্টামিন তৈরিতে বাধা প্রদান করে ও প্রদাহ কমায়।
অননত্মমূল : এই গাছের পাতায় ও শিকড়ে টাইলোপিরিন নামে যে উপাদান থাকে তা এ্যালার্জিজনিত শ্বাসনালীর প্রদাহসহ এ্যাজমার প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
কুঁচিলা : এ্যালার্জি থেকে রৰা পাবার এক অনন্য নাম কুঁচিলা। এই গাছে স্টিকনিন, ব্রম্নসিনসহ নানা মূল্যবান উপাদান তৈরি হয়।
কোল্ড এ্যালার্জি থেকে রৰার উপায়
একটু শীতেই অনেকে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথায় ভোগেন, যা কোল্ড এ্যালার্জি নামে পরিচিত। এটা ঘাবড়াবার মতো তেমন কিছু নয় এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এ থেকে রৰা পাওয়া সম্ভব। যেমন_
হ বেশি করে পানি পান করা
হ বিশেষ পথ্যের দরকার নেই, তবে ফলের রস, বিশেষত কমলা লেবু বা পাতি লেবুর রস খেলে উপকার পাওয়া যায়।
হ গরম পানির ভাপ নেয়া। অনত্মত দিনে চার বার।
হ এক টুকরো মিছরি, লবঙ্গ বা আদা মুখে রাখা।
হ মধুর সঙ্গে তুলসী বা বাসক পাতার রস মিলিয়ে খাওয়া।
হ সর্দি-কাশির সঙ্গে গলা ব্যথা হলে এক গস্নাস গরম পানিতে এক চামচ লবণ দিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার গার্গল বা কুলকুচা করা।
হ সমপরিমাণ মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে ১০ মিনিট অনত্মর বড় চামচের এক চামচ খেলে গলা ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।
হ ৫ গ্রাম শুকনো হলুদ গুঁড়ো, ২৫০ মি.লি. দুধ এবং ২ চামচ চিনি ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে সে দুধ খেলে সর্দি কমে যায়।
হ আদা ও তুলসী পাতা এক গস্নাস পানিতে ফুটিয়ে তাতে এক কাপ মধু মিশিয়ে দিনে ৪ থেকে ৫ বার খেলে উপকার পাওয়া যায়।
হ খানিকটা পানি ফুটিয়ে তার সঙ্গে একটি পাতি লেবুর রস আর অল্প চিনি বা লবণ মিশিয়ে গরম গরম খেলে আরাম পাওয়া যায়।
হ সর্দি-কাশি লেগে থাকলে ওল পোড়ার সঙ্গে নারকেল কোরা ও ৫ থেকে ৭ ফোঁটা ঘি মিশিয়ে খেলে সর্দির দোষটা কেটে যাবে।
উপরোক্ত টিপসগুলো মেনে চললে ঠা-া একেবারে সেরে যাবে, তবে অবস্থার যদি খুবই অবনতি ঘটে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. রুপম

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন2 months ago

ওষুধ খাওয়ার ভুলে অসুস্থতা

জ্বর বা মাথাব্যথা হলেই প্যারাসিটামল, অ্যালার্জির জন্য হিস্টাসিন কিংবা গ্যাসের ট্যাবলেট- এই ধরনের ওষুধগুলো আমরা হরহামেশাই খাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই।...

খাদ্য ও পুষ্টি2 months ago

শিশুদের জন্য লবণ যতটুকু দরকার

অতিরিক্ত লবণ শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা প্রদানের পাশাপাশি অল্প বয়সে রক্তচাপের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে এমন পরিমাণ লবণ রাখতে হবে যা...

জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন2 months ago

ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কেন

বয়সে টিংকু বেশ ছোট। এত ছোট যে মাঝেমধ্যে টিংকুর দাঁত পড়ে। একবার বিড়াল টিংকুকে আঁচড়ে দিল। চিকিৎসক বললেন যে র‌্যাবিসের...

Advertisement