জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন

জ্বরকে জানুন, সতর্ক হোন

Share

জ্বর আসলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বহিঃপ্রকাশ। জ্বর কোনো রোগ নয়। তাই জ্বরে খুব একটা চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু এটি যাতে বড় ধরনের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন। জ্বরের কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-

রোগ নির্ণয়
জ্বরের রোগীর ক্ষেত্রে রোগের ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই রোগী বা তার ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে শুনেই জ্বরের কারণ বোঝা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর নিজের বিবৃতি বা তার সঙ্গে অনেক সময় ধরে আছেন এমন কারও বিবৃতি প্রয়োজন হবে। জ্বরের মেয়াদকাল, তাপমাত্রার উঠতি-পড়তি ও ব্যবধান, পরিবারের বা একই বাসা বা কর্মক্ষেত্রে আর কারও জ্বরের ঘটনা ঘটেছে কি-না, সাম্প্রতিক ভ্রমণ, বিশেষ খাদ্যগ্রহণ, কাঁচা বা আধা সেদ্ধ, পোষা বা বন্যপ্রাণী সংস্রব, পশুর বা পোকামাকড়ের কামড় ও কোন এলাকায় বসবাস করছে তা জানা প্রয়োজন। এর সঙ্গে রোগীর শারীরিক পরীক্ষাও জরুরি।
এরপরও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে রক্ত, মূত্র, মল ও এক্সরে অগ্রাধিকার পাবে। তবে কোন সময় কোন পরীক্ষাটি করা হবে তা চিকিত্সকই স্থির করবেন।

চিকিত্সা
অধিকাংশ জ্বরই এমনি নির্দিষ্ট সময় আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। প্রথমেই ভাইরাসঘটিত জ্বর। এক্ষেত্রে শুরু দেহের তাপমাত্রা কমানোর ওষুধ প্যারাসিটামল জাতীয় ও সহায়ক ব্যবস্থাপনা করতে হবে তবে জ্বরের ধরন ও মাত্রা দেখে চিকিত্সক সিদ্ধান্ত নেবেন কার জন্য কী করতে হবে। এজন্য জ্বরকে অবহেলা না করে সত্বর চিকিত্সকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। আর শিশুদের জ্বর হলে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। নিম্নলিখিত উপসর্গ/লক্ষণগুলো জ্বরাক্রান্ত শিশুদের মাঝে দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে।
১। হঠাত্ করে শিশুর আচরণ পরিবর্তিত হলে ২। খুব বেশি বমি হলে বা পাতলা পায়খানা হলে ৩। অনবরত উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে থাকলে ৪। প্রচণ্ড মাথাব্যথার কথা বললে ৫। পাকস্থলীর ব্যথার কথা বললে ৬। অযথা বিরক্ত হলে ৭। ত্বকে কোনো দানা বা গুটি দেখা দিলে ৮। মুখ শুকিয়ে এলে ৯। ক্ষুধা না থাকার কথা বললে ১০। গলায় ব্যথা থাকলে ১১। গলার ভেতর খড়খড় শব্দ হলে ১২। কানে ব্যথা থাকলে ১৩। খিঁচুনি হলে ১৪। ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে ১৫। বুকের ভেতর শন শন শব্দ হলে।

জ্বর কমানোর জন্য স্পঞ্জিং
অনেক ক্ষেত্রেই পুরো শরীর ভেজা নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে একটানা কয়েকবার আলতো করে মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং খুব ভালো বোধ হয় রোগীর। এ কাজে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল ব্যবহার করতে হবে। খুব ঠাণ্ডা জল ব্যবহার করা সমীচীন হবে না। আর শিশুদের ক্ষেত্রে জলে শিশুটিকে বসিয়ে স্পঞ্জ করাই সুবিধাজনক। জ্বরে আক্রান্ত রোগীর থাকার ঘরের তাপমাত্রা ২৩.৯ ডিগ্রি সে. থাকাই সবচেয়ে ভালো। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে জ্বরে আক্রান্তদের শুধু মাথায় জল ঢালার অভ্যাস লক্ষ্য করা যায়। এটি মোটেও উপকারী নয়। এতে জ্বর তো নামবেই না বরং ঠাণ্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে।

জটিলতা
জ্বর খুব বেড়ে গেলে এর জন্য বিপাকীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্বরের কারণে দেহের ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় এবং এর জন্য রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে (ডায়াবেটিসের রোগীদের)। অকস্মাত্ তাপমাত্রা বৃদ্ধি কমাও শিশুদের খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাসে প্রচণ্ড জ্বর হলে শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
জ্বর সম্ভবত প্রাচীনতম ও সর্বজনগ্রাহ্য অসুখের উপসর্গ। জ্বর দেহের সংক্রমণ প্রতিরোধের বা স্বাভাবিক সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। জ্বরের চিকিত্সার ইতিহাসও সুপ্রাচীন। এসপিরিন জাতীয় ওষুধ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খুব ভালো। তবে শিশুদের জন্য এসপিরিন দেয়া যাবে না। তাদের জন্য প্যারাসিটামলই ভালো।

ডা. শাহজাদা সেলিম

Share this news as a Photo Card

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার...

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে

আজ ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’–এ প্রতিপাদ্যকে সামনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।...

Related Articles

নারীর নীরব ঘাতক এন্ডোমেট্রিওসিস: লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আমাদের মেয়েদের জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম যেখানে ভ্রুন প্রতিস্থাপিত হয়ে...

নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের রোজায় যে সতর্কতা জরুরি

যাদের লো ব্লাড প্রেশার কিংবা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘ...

27 October 2010

জ্বরকে জানুন, সতর্ক হোন

Shastho.TV |
ShasthoTV
ShasthoTV