খাদ্য নিওফোবিয়া: নতুন খাবারের ভয়ে পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি

Share

খাদ্য নিওফোবিয়া (Food Neophobia) হলো নতুন বা অপরিচিত খাবার খেতে ভয় পাওয়া, অনীহা বা তা প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা। এটি বিশেষ করে ২ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের একটি অংশ। এই সমস্যায় আক্রান্তরা অপরিচিত খাবারের স্বাদ বা গন্ধ পাওয়ার আগেই তা চেহারা দেখে বা না জেনেই খেতে অস্বীকার করে।

মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সাথে মানসিক অবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অনেকেই নতুন বা অচেনা খাবার দেখলে ভয় পান বা তা খেতে অস্বস্তি বোধ করেন। এই অবস্থাকে বলা হয় খাদ্য নিওফোবিয়া। এটি বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও অনেক প্রাপ্তবয়স্কও এ সমস্যায় ভুগে থাকেন।

খাদ্য নিওফোবিয়া কী?
খাদ্য নিওফোবিয়া হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি নতুন বা অপরিচিত খাবার খেতে অনীহা বা ভয় অনুভব করেন। এটি এক ধরনের আচরণগত বৈশিষ্ট্য, যা অনেক সময় স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত হলে তা পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

লক্ষণসমূহ
খাদ্য নিওফোবিয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো—

নতুন খাবার দেখলে এড়িয়ে যাওয়া
নির্দিষ্ট কিছু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা
খাবার নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ বা অস্বস্তি
খাবারের গন্ধ বা চেহারা দেখে বিরূপ প্রতিক্রিয়া
শিশুদের ক্ষেত্রে কান্না, রাগ বা জেদ করা
কেন হয় এই সমস্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য নিওফোবিয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—

বংশগত প্রভাব
ছোটবেলায় খারাপ খাদ্য অভিজ্ঞতা
পরিবেশগত প্রভাব (পরিবারের খাদ্যাভ্যাস)
সংবেদনশীলতা (গন্ধ, স্বাদ বা টেক্সচার নিয়ে)
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
এর প্রভাব

খাদ্য নিওফোবিয়া দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে—

পুষ্টিহীনতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে)
সামাজিক পরিবেশে অস্বস্তি

কিভাবে মোকাবেলা করবেন?
খাদ্য নিওফোবিয়া দূর করতে কিছু কার্যকর উপায়—

১. ধীরে ধীরে নতুন খাবার পরিচয় করানো
একসাথে অনেক নতুন খাবার না দিয়ে ধীরে ধীরে ছোট পরিমাণে পরিচয় করানো উচিত।

২. পরিচিত খাবারের সাথে নতুন খাবার মেশানো
যেমন—প্রিয় খাবারের সাথে নতুন উপাদান মিশিয়ে দেওয়া।

৩. ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা
খাবার খাওয়ার সময় চাপ না দিয়ে আনন্দময় পরিবেশ রাখা জরুরি।

৪. উদাহরণ তৈরি করা
পরিবারের অন্য সদস্যরা নতুন খাবার খেলে শিশুদের উৎসাহ বাড়ে।

৫. জোর না করা
জোর করে খাওয়ালে ভয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

৬. পেশাদার সহায়তা নেওয়া
সমস্যা গুরুতর হলে পুষ্টিবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপসংহার
খাদ্য নিওফোবিয়া একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলিত সমস্যা। সচেতনতা ও সঠিক পদ্ধতিতে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও ইতিবাচক আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সহযোগিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে এই সমস্যার সমাধান দিতে।

Share this news as a Photo Card

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

‘চিকিৎসকদের আদর্শগত বিভাজনেই স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা’

দেশের চিকিৎসকদের মধ্যে আদর্শগত বিভাজনের কারণেই স্বাস্থ্যখাত কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সদ্য সাবেক উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক...

ডা. আরিফের উদ্যোগে গ্রিনমাইন্ড স্কুলে বিনামূল্যে দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দন্ত চিকিৎসক মো. আরিফুর রহমানের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বসুন্ধরার গ্রিনমাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন...

Related Articles

বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে আপনার প্রতিদিনের জীবনযাপন কেমন হওয়া উচিত?

বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম শরীরের ভেতরের একটি চলমান প্রক্রিয়া। খাবার থেকে শক্তি তৈরি,...

নারীর নীরব ঘাতক এন্ডোমেট্রিওসিস: লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

আমাদের মেয়েদের জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম যেখানে ভ্রুন প্রতিস্থাপিত হয়ে...

03 April 2026

খাদ্য নিওফোবিয়া: নতুন খাবারের ভয়ে পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি

Shastho.TV |
ShasthoTV
ShasthoTV