প্রধান খবরস্বাস্থ্য সংবাদ

৬৬ শতাংশ যুবক জানেনই না শরীরে ডায়াবেটিস বহন করছেন

Share

প্রথাগতভাবে ডায়াবেটিসকে প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটি শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তরুণ বয়সে টাইপ–১ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিস–এর সংখ্যা বাড়ছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

দেশে ১০ থেকে ৩৪ বছর বয়সি কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণ প্রি-ডায়াবেটিস (যারা ডায়াবেটিস আক্রান্তে ঝুঁকিতে আছেন) এবং যুবক বয়সি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যুবকদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ জানেনই না তারা শরীরে রোগটি বহন করছেন।

এছাড়া ১৮ দশমিক শূন্য শতাংশ নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ নারীর গর্ভাবস্থায় প্রথম ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত নারীদের ২০ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভাবস্থায় হাইপারগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। একইভাবে নারীদের মধ্যে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সমস্যায় ভুগছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যপী অসংক্রামক ব্যধির প্রাদুর্ভাববিষয়ক তিনটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘যুব বয়সে ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জিডিএম) এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম’ বিষয়ক জাতীয় গবেষণায় অর্থায়ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।

ইতোমধ্যে একটি গবেষণার ফল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী ‘এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটিস’ ও আরেকটি গবেষণা ‘জার্নাল অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজি’ শীর্ষক বিজ্ঞান সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। অপরটি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, ইনসুলিন নামের এক প্রকার হরমোনের অভাব হলে কিংবা উৎপাদিত ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গলে রক্তের গ্লুকোজ দেহের বিভিন্ন কোষে প্রয়োজনমতো পৌঁছাতে পারে না। এতে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিকেই ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস একবার হলে সারাজীবন থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অন্ধত্ব, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক, মাড়ির রোগ ও পঙ্গুত্বের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) নারীদের একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যা মূলত অনিয়মিত পিরিয়ড, অতিরিক্ত পুরুষ হরমোন (অ্যান্ড্রোজেন) ও ডিম্বাশয়ে ছোট সিস্টের কারণে হয়। এটি ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ, মুখে অতিরিক্ত চুল ও বন্ধ্যত্বের কারণে হতে পারে। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পিসিওএস-এর ফলে অনিয়মিত মাসিক, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, চুল পড়া, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি ও প্রজনন সমস্যা (বন্ধ্যত্ব) দেখা দিতে পারে।

বিএমএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসক, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ও পিএইচডি শিক্ষার্থী সমন্বয়ে গঠিত ‘স্টাডি অন ওবেসিটি অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন ইয়ং (এসওডিওয়াই) গ্রুপ, পিওসিএস স্টাডি গ্রুপ ও জিডিএম স্টাডি গ্রুপ’ দেশের ৮ বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণাটি করেছে। গবেষক দলের প্রধান ছিলেন বিএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ হাসানাত।

অন্যদের মধ্যে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাশফিকুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ মোরশেদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. তানিয়া তোফায়েল প্রমুখ।

‘বাংলাদেশে যুব বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস : জাতীয় প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকির কারণ’ শীর্ষক প্রথম গবেষণাটি ৮ বিভাগের শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে ১০ থেকে ৩৪ বছর বয়সি ২,৩০০ জন কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত হয়।

এতে দেখা যায়, ৪ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও ১৮ দশমিক ৪ শতাংশের প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ আগে শনাক্ত হয়নি। ডায়াবেটিসের হার কিশোরদের তুলনায় তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি (৭ দশমিক ৫ শতাংশের বিপরীতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ) ও গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি (৬ দশমিকের বিপরীতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ)। ঝুঁকির প্রধান কারণ হিসাবে পাওয়া গেছে কম শারীরিক পরিশ্রম, তামাক ব্যবহার, স্থূলতা বা মেদ, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি। এই গবেষণা তরুণদের মধ্যে আগেভাগে ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ও জীবনধারাভিত্তিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের প্রাদুর্ভাব শীর্ষক দ্বিতীয় গবেষণাটি ১০ বছর থেকে ৪৫ বছর বয়সি নারীদের ওপর করা হয়। জাতীয় এই গবেষণায় ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক এভিডেন্স-বেইজড ‘পিসিওএস’ গাইডলাইন ব্যবহার করা হয়। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ৭৯৮ জন নারীর মধ্যে পিসিওএস-এর প্রাদুর্ভাব ৬ দশমিক ৯ শতাংশ পাওয়া যায়।

এছাড়া দেখা যায়, ৪ দশমিক ৮ শতাংশ নারীর অনিয়মিত মাসিক ও অবাঞ্ছিত লোম দুটিই ছিল, ৯ দশমিক ৪ শতাংশের শুধু অবাঞ্ছিত লোম ও ১৭ দশমিক ৭ শতাংশের শুধু অনিয়মিত মাসিক ছিল। পিসিওএস-এ আক্রান্ত নারীদের মধ্যে বংশ প্রবণতা, অস্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস, অ্যান্ড্রোজেনজনিত বৈশিষ্ট্য ও বিপাকীয় জটিলতা বেশি ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক পিসিওএস রোগীদের মধ্যে মেটাবলিক সিনড্রোম কিশোরীদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল (৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বনাম ৮ দশমিক শূন্য শতাংশ)।

এই গবেষণা দেখায় যে, পিসিওএস বাংলাদেশের নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা ও যাদের আংশিক বৈশিষ্ট্য আছে তাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন।

‘বাংলাদেশে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের জাতীয় চিত্র শীর্ষক তৃতীয় গবেষণায় ১,১৯৪ জন গর্ভবতী নারী অংশ নেন। সবার ক্ষেত্রে ৭৫ গ্রাম ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (ওজিটিটি) করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভধারণে ডায়াবেটিস ছিল। এর মধ্যে ১৮ দশমিক শূন্য শতাংশ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও ২ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভাবস্থায় প্রথম শনাক্ত ডায়াবেটিস। অর্থাৎ দেশে প্রায় প্রতি পাঁচটি গর্ভধারণের একটি হাইপারগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত। এই ফল গর্ভাবস্থায় সবার জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত স্ক্রিনিং চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরে।

গবেষক দলের সদস্য ডা. মাশফিকুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, তিনটি গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবায় এন্ডোক্রাইন কেয়ারকে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত করা জরুরি।

প্রথাগতভাবে ডায়াবেটিসকে প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটি শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তরুণ বয়সে টাইপ–১ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিস–এর সংখ্যা বাড়ছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

দেশে ১০ থেকে ৩৪ বছর বয়সি কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ তরুণ প্রি-ডায়াবেটিস (যারা ডায়াবেটিস আক্রান্তে ঝুঁকিতে আছেন) এবং যুবক বয়সি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত যুবকদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশই জানেন না তারা শরীরে রোগটি বহন করছেন।

এছাড়া ১৮ দশমিক শূন্য শতাংশ নারী গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২ দশমিক ৭ শতাংশ নারীর গর্ভাবস্থায় প্রথম ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত নারীদের ২০ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভাবস্থায় হাইপারগ্লাইসেমিয়া অর্থাৎ রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। একইভাবে নারীদের মধ্যে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সমস্যায় ভুগছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের উদ্যোগে দেশব্যপী অসংক্রামক ব্যধির প্রাদুর্ভাববিষয়ক তিনটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘যুব বয়সে ডায়াবেটিস, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (জিডিএম) এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম’ বিষয়ক জাতীয় গবেষণায় অর্থায়ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।

ইতোমধ্যে একটি গবেষণার ফল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী ‘এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটিস’ ও আরেকটি গবেষণা ‘জার্নাল অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজি’ শীর্ষক বিজ্ঞান সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। অপরটি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

গবেষকরা যুগান্তরকে বলছেন, ইনসুলিন নামের এক প্রকার হরমোনের অভাব হলে কিংবা উৎপাদিত ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে গলে রক্তের গ্লুকোজ দেহের বিভিন্ন কোষে প্রয়োজনমতো পৌঁছাতে পারে না। এতে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিকেই ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস একবার হলে সারাজীবন থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অন্ধত্ব, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক, মাড়ির রোগ ও পঙ্গুত্বের মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) নারীদের একটি সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা, যা মূলত অনিয়মিত পিরিয়ড, অতিরিক্ত পুরুষ হরমোন (অ্যান্ড্রোজেন) ও ডিম্বাশয়ে ছোট সিস্টের কারণে হয়। এটি ওজন বৃদ্ধি, ব্রণ, মুখে অতিরিক্ত চুল ও বন্ধ্যত্বের কারণে হতে পারে। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পিসিওএস-এর ফলে অনিয়মিত মাসিক, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, চুল পড়া, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি ও প্রজনন সমস্যা (বন্ধ্যত্ব) দেখা দিতে পারে।

বিএমএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসক, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ও পিএইচডি শিক্ষার্থী সমন্বয়ে গঠিত ‘স্টাডি অন ওবেসিটি অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইন ইয়ং (এসওডিওয়াই) গ্রুপ, পিওসিএস স্টাডি গ্রুপ ও জিডিএম স্টাডি গ্রুপ’ দেশের ৮ বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গবেষণাটি করেছে। গবেষক দলের প্রধান ছিলেন বিএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ হাসানাত।

অন্যদের মধ্যে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাশফিকুল হাসান, সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদ মোরশেদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. তানিয়া তোফায়েল প্রমুখ।

‘বাংলাদেশে যুব বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস : জাতীয় প্রাদুর্ভাব ও ঝুঁকির কারণ’ শীর্ষক প্রথম গবেষণাটি ৮ বিভাগের শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে ১০ থেকে ৩৪ বছর বয়সি ২,৩০০ জন কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত হয়।

এতে দেখা যায়, ৪ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠী টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও ১৮ দশমিক ৪ শতাংশের প্রি-ডায়াবেটিস রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ আগে শনাক্ত হয়নি। ডায়াবেটিসের হার কিশোরদের তুলনায় তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি (৭ দশমিক ৫ শতাংশের বিপরীতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ) ও গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি (৬ দশমিকের বিপরীতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ)। ঝুঁকির প্রধান কারণ হিসাবে পাওয়া গেছে কম শারীরিক পরিশ্রম, তামাক ব্যবহার, স্থূলতা বা মেদ, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি। এই গবেষণা তরুণদের মধ্যে আগেভাগে ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ও জীবনধারাভিত্তিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের প্রাদুর্ভাব শীর্ষক দ্বিতীয় গবেষণাটি ১০ বছর থেকে ৪৫ বছর বয়সি নারীদের ওপর করা হয়। জাতীয় এই গবেষণায় ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক এভিডেন্স-বেইজড ‘পিসিওএস’ গাইডলাইন ব্যবহার করা হয়। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ৭৯৮ জন নারীর মধ্যে পিসিওএস-এর প্রাদুর্ভাব ৬ দশমিক ৯ শতাংশ পাওয়া যায়।

এছাড়া দেখা যায়, ৪ দশমিক ৮ শতাংশ নারীর অনিয়মিত মাসিক ও অবাঞ্ছিত লোম দুটিই ছিল, ৯ দশমিক ৪ শতাংশের শুধু অবাঞ্ছিত লোম ও ১৭ দশমিক ৭ শতাংশের শুধু অনিয়মিত মাসিক ছিল। পিসিওএস-এ আক্রান্ত নারীদের মধ্যে বংশ প্রবণতা, অস্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস, অ্যান্ড্রোজেনজনিত বৈশিষ্ট্য ও বিপাকীয় জটিলতা বেশি ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক পিসিওএস রোগীদের মধ্যে মেটাবলিক সিনড্রোম কিশোরীদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল (৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ বনাম ৮ দশমিক শূন্য শতাংশ)।

এই গবেষণা দেখায় যে, পিসিওএস বাংলাদেশের নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা ও যাদের আংশিক বৈশিষ্ট্য আছে তাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ প্রয়োজন।

‘বাংলাদেশে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের জাতীয় চিত্র শীর্ষক তৃতীয় গবেষণায় ১,১৯৪ জন গর্ভবতী নারী অংশ নেন। সবার ক্ষেত্রে ৭৫ গ্রাম ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (ওজিটিটি) করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভধারণে ডায়াবেটিস ছিল। এর মধ্যে ১৮ দশমিক শূন্য শতাংশ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও ২ দশমিক ৭ শতাংশ গর্ভাবস্থায় প্রথম শনাক্ত ডায়াবেটিস। অর্থাৎ দেশে প্রায় প্রতি পাঁচটি গর্ভধারণের একটি হাইপারগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত। এই ফল গর্ভাবস্থায় সবার জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত স্ক্রিনিং চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরে।

গবেষক দলের সদস্য ডা. মাশফিকুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, তিনটি গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবায় এন্ডোক্রাইন কেয়ারকে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত করা জরুরি।

Share this news as a Photo Card

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার...

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে

আজ ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’–এ প্রতিপাদ্যকে সামনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি।...

Related Articles

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি সেমিনার অনুষ্ঠিত

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি...

চার সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি

ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ চার সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে নতুন আহ্বায়ক কমিটি...

শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়...

হাসপাতাল-ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ দ্বিগুণ করলো সরকার

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক এবং মেডিকেল চেকআপ সেন্টারগুলোর...

প্রান্তিক শহরে উন্নত আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি নিয়ে উইপ্রো’র ‘হেলথ এক্সপ্রেস’ কর্মসূচি শুরু

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান উইপ্রো জিই হেলথকেয়ার ‘হেলথ এক্সপ্রেস’ নামে একটি...

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করল মন্ত্রিসভা

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি–২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন...

হামের জেনেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ নেই, বেশি ঝুঁকিতে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে ভাইরাসটির এমন কোনো নতুন জেনেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি,...

অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি থাকলে বিদেশে চিকিৎসার খরচ কমবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশে আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত বা ‘অ্যাক্রেডিটেড’ ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে...

10 April 2026

৬৬ শতাংশ যুবক জানেনই না শরীরে ডায়াবেটিস বহন করছেন

Shastho.TV |
ShasthoTV
ShasthoTV