দেশজুড়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে হাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৫৬ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে এই সংক্রামক রোগ। সবশেষ শুক্রবার হামের থাবায় ময়মনসিংহ, রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়ায় প্রাণ গেছে ৪ শিশুর। সন্তানহারা বাবা-মার বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে চারপাশ।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে এখন শুধুই স্বজনদের চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার চিত্র। জ্বরের ঘোরে কাতরানো শিশুটির গায়ে হামের লালচে দাগ দেখে দিশেহারা মা-বাবা। আদরের সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে তারা চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া কাল থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৪৭ জন শিশু উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার ৭৯২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে সন্দেহভাজন হামের রোগী হিসাবে তিন হাজার ৭৭৬ জনকে ভর্তি করতে হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৭৭১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা যায়নি। তবে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে মৃত্যুবরণ করেছে ৪ জন। এছাড়া এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৪।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে দেখা যায় ছুটির দিনেও জরুরি বিভাগের সামনে শখানেকের বেশি নারী-পুরুষের জটলা। বেশির ভাগ নারীর কোলে অসুস্থ শিশু। চৈত্রের তীব্র গরম ও অসুস্থতার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে শিশুদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অবুঝ শিশুদের কষ্ট দেখে অভিভাবকদেরও কেউ কেউ কান্না চেপে শিশুকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসক দেখাতে আসা অন্তত ২০ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তাদের বেশির ভাগই হাম ও নিউমোনিয়া উপসর্গে ভুগছে।
হামের শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালে দুটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। নিচতলার দুই ওয়ার্ডের ১৪নং বিছানায় হাম নিয়ে ভর্তি রয়েছে ৫ মাস ১১ দিনের শিশু আয়ান। নাকে পরানো নল দিয়ে অক্সিজেন চলছিল তার। জানতে চাইলে শিশুটির মা লিজা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ১৫ দিন আগে ছেলের জ্বর শুরু হয়। সঙ্গে শরীরে র্যাশ দেখা দিলে ধামরাইয়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক দেখান। বুকের এক্সরে করে জানায় নিউমোনিয়া হয়েছে। সেখানে ভর্তি করে ৭ দিন রাখে। ৩১ মার্চ রাতে সোহরাওয়ার্দীতে নিয়ে আসি। সেখান থেকে শিশু হাসপাতালে পাঠায়। এখানে আসার পর জানতে পরি হাম সারলেও নিউমোনিয়া আছে। শ্বাসকষ্ট হওয়ায় অক্সিজেন চলছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল : এদিকে দেশজুড়ে শিশুদের হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আপৎকালীন সময়ের জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
টিকাদান কর্মসূচি : এদিকে রোববার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জরুরি বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান বলে শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কুষ্টিয়া : হামের উপসর্গে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ঠান্ডা, জ্বর-সর্দি ও কাশি নিয়ে ভর্তি আছে ২৮৪ শিশু। এর মধ্যে হাম রোগীর সংখ্যা ১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৭ জন।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটি মারা গেছে। মৃত আফরান সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে। আল আমিন যুগান্তরকে বলেন, ১০ দিন আগে বাচ্চার জ্বর হয়। পরে শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা যায়। সেদিন বাচ্চাকে কুষ্টিয়ার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাই। পরে ওই চিকিৎসক তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
আল আমিনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বাচ্চার অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো বড় ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায়নি। এমনকি ভোরে বাচ্চার অবস্থা আরও খারাপ হলেও চিকিৎসক-নার্সদের ডেকে পাননি তিনি। তিনি বলেন, অবহেলায় আমার বাচ্চাটি চোখের সামনে মারা গেল, কিছুই করতে পারিনি। পরে লাশ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভোরে হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা যাননি। তবুও শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছিল।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, শুক্রবার ভোরে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩ মাস বয়সি সাফা নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইয়ামিন নামে ৮ মাসের এক শিশু মারা গিয়েছিল। এ নিয়ে ২ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৩ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এদিকে রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, হামের চিকিৎসা দিতে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেল ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১২ জন। আর ছাড়পত্র পেয়েছে ১৩ জন। এখন হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৩৫২ জন রোগী ভর্তি আছে।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টায় শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোলাম মাওলা জানান, ২৪ মার্চ কিশোরগঞ্জ থেকে ৪ মাস বয়সি শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শিশুটি হাম ছাড়াও হৃদযন্ত্রের বিকলতাসহ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। এ নিয়ে হাম আক্রান্ত হয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ৬৭টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ডা. গোলাম মাওলা বলেন, ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ হাসপাতালে মোট ১৮১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। এর মধ্যে মোট ১১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। ৬ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
চট্টগ্রাম : নগরীতে এ হামের হার বেশি বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়। এরই মধ্যে হামের হটস্পট হিসাবে নগরীর চারটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এ চারটি এলাকা হলো-নগরীর বাকলিয়া, লালখান বাজার, খুলশী ও চান্দগাঁও। শুক্রবার চট্টগ্রামে নতুন করে আরও চারজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন নগরীর এবং ৪ জন উপজেলার বাসিন্দা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন নগরী থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলায়। এ কারণে টিকার বিকল্প নেই।
এদিকে কক্সবাজারের শিশুদের মাধ্যমে চট্টগ্রামে হামের বিস্তার ঘটেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। হাসপাতালটিতে দুই সপ্তাহ আগে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে প্রথম দুই শিশু ভর্তি হয়েছিল। তারা কক্সবাজার থেকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিশু নগরীর। ঘনবসতিপূর্ণ বাকলিয়া, লালখান বাজার, খুলশী ও চান্দগাঁও এলাকা থেকে এসব রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নগরীর সঙ্গে লাগোয়া হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলার শিশুরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এজন্য টিকার কোনো বিকল্প নেই।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালে দুই সপ্তাহ আগেও হামের উপসর্গ নিয়ে কোনো শিশু ভর্তি ছিল না। কক্সবাজার থেকেই এটি বিভিন্নভাবে চট্টগ্রামে ছড়িয়েছে। হাসপাতালে নতুন করে আরও ২ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। তারাও কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা। হাম ব্লকে বর্তমানে ৪০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাদের অনেকে একবারের জন্যও টিকা নেয়নি। বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে যে চার শিশু চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে দুজনকে একবারের জন্যও টিকা দেয়া হয়নি। অথচ হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে এ রোগ দ্রুত শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
ভোলা : জেলা সদরের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চতুর্থতলায় ৬০টি বেড নিয়ে রয়েছে শিশু ওয়ার্ড। সেখানে ভর্তি রয়েছে ২৬০ শিশু। ওই তলায় চলাচলের কোনো জায়গা নেই। ফ্লোরে শিশুদের নিয়ে মা ও স্বজনদের বিছানা। জ্বর, নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভিড় করছেন স্বজনরা। গেল ৩ দিন প্রতিদিনই ভর্তির সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ জন। এদিকে তাদের চিকিৎসা দিতে নাভিশ্বাস উঠেছে ডাক্তার ও নার্সদের।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, শিশু ওয়ার্ডে ৬০ বেড রয়েছে। এর বেশি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় ২০০ শিশু। বিষয়টি অমানবিক হলেও এই মুহূর্তে কিছু করার নেই।
সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম জানান, জেলা থেকে ২৫ শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে ৯ মাসের নিচের শিশুরা হামের টিকা পাচ্ছে। এর উপরের বয়সের শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোনো অনুমতি বা চিঠি আসেনি।


