‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সারা দেশব্যাপী পালিত হবে বিশ্ব কিডনি দিবস। সে উপলক্ষ্যে ঢাকায় ফ্রি কিডনি চেকআপ ক্যাম্পেইন চালু করেছে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন।
রোববার (৮ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন চলবে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে মোট দুটি ক্যারাভ্যানে সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চালু থাকে। অনলাইন বেইজড এ ক্যাম্পেইনে একজন ব্যক্তি ক্যারাভ্যানে সংযুক্ত কিউআর কোড স্ক্যান করে কিডনি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধান পাবেন।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে সচেতনতামূলক ক্যারাভান উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এ সময় বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সারা পৃথিবীব্যাপী বর্তমানে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। কিডনি রোগের কারণগুলো বেশিরভাগই প্রতিরোধযোগ্য। প্রাথমিক অবস্থায় এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
কিডনির স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতা নিয়ে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ০১ টি স্টাডির উপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ এবং দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী গত ১ দশকে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই মহামারিতে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার যে ক্ষমতা, সে অনুযায়ী আমরা এই নতুন রোগীদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীকে ট্রান্সপ্লান্ট, ভায়া-লাইসিস এবং অন্যান্য চিকিৎসা দিতে পারছি। তার মানে প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথরা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। শুধু যে বাংলাদেশে এই কিডনি রোগের সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, সারা পৃথিবীব্যাপী বর্তমানে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুই যুগ আগে মানুষ মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ ছিল ২৭ তম স্থানে। বর্তমানে এটির স্থান অষ্টম এবং ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে।
রেনাল অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যয়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর উপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের উপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দুরূহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগ প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আশার বিষয় হচ্ছে কিডনি রোগের চিকিৎসা যতটা ব্যয়বহুল, কিডনি রোগ নির্ধারণ কিন্তু ততই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র একটি প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কিডনি রোগী শনাক্ত করতে অনেকখানি সক্ষম। আমরা যদি প্রতিটি ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই তথ্য এবং এই প্রযুক্তিটাকে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে কিডনি রোগ সনাক্ত অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কিডনি রোগের প্রতিকারও আমাদের সক্ষমতার ভিতরে চলে আসবে।

