নির্বাচিতস্বাস্থ্য সংবাদ

দেশে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম বাড়ছে

Share
দেশে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম বাড়ছে | ছবি : সংগৃহীত
Share

দেশে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মের হার বাড়ছে। একই সাথে আক্রান্তদের ৬০ ভাগই চিকিৎসার বাইরে থাকছে। যদিও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে আক্রান্তদের ৫০ ভাগই এ রোগের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, দেশে ফলিক এসিডের ঘাটতির কারণে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম বাড়ছে। প্রতি বছর ১৫ হাজারেরও বেশি শিশু ভুগছে হাঁটাচলায় সমস্যাসহ পিঠ বেঁকে যাওয়ার মতো শারীরিক প্রতিবন্ধকতায়।

তবে আক্রান্তদের ৬০ ভাগই চিকিৎসার বাইরে থাকছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে আক্রান্তদের ৫০ ভাগই এ রোগের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নিউরোসার্জারি রেসিডেন্ট ডা. সজীব কবির ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে বহির্বিভাগে দেখতে পাই যে, প্রতিদিনই প্রচুর পরিমাণে কোমরের দিকে যে ফোলা রোগী আমাদের কাছে আসে। যেটা স্পাইনাল কর্ডের জন্মগত ত্রুটি। প্রতি সপ্তাহেই আমরা এ ধরনের রোগী ভর্তি দিচ্ছি। সপ্তাহে তিন থেকে চারজন এমন রোগীর অপারেশন করা হচ্ছে।’

চিকিৎসকেরা জানান, ফলিক এসিডের ঘাটতিসহ জিনগত কারণে মস্তিষ্ক বা শিরদাঁড়ায় কোথাও ফাঁক তৈরি হয়ে স্নায়ুর অংশ বেরিয়ে আসে, যা নিউরাল টিউব ডিফেক্ট নামে পরিচিত।

জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের শিশু নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদিপ্ত কুমার মুখার্জী বলেন, এই রোগের সঙ্গে দেখা যায় যে, রোগী দুই পা নাড়াতে পারে না। প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে না, ফোঁটা ফোঁটা পড়ে। এ ছাড়া কিডনির অসংগতি থাকে। অনেক সময় ব্রেন স্লিপ করে নিচের দিকে নেমে আসতে থাকে।

এ রোগে আক্রান্তদের উপসর্গ দেখামাত্রই হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দেরিতে চিকিৎসায় নানা জটিলতা দেখা দেয়।

ডা. সুদিপ্ত কুমার মুখার্জী বলেন, ফোলা অংশটি ফেটে যদি পানি বের হতে থাকে তাহলে অতি জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে। যেসব শিশু দেরিতে আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্য আসে তাদের সুস্থতার সম্ভাবনা অনেকটায় কমে যায়। সুতরাং একটা হচ্ছে রোগের প্রতিরোধ আরেকটা চিকিৎসার ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া।

এদিকে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা মোবিন। তিনি বলেন, যদি কোনো গর্ভবতী নারী ফলিক এসিডযুক্ত ট্যাবলেটটি না খান তাহলে গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুর গঠনে জটিলতা হয়। এ ছাড়া মায়ের রক্তশূন্যতা দেখা দেয় ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, দেশে প্রতি হাজার শিশুর ৫ জনই আক্রান্ত হয় ফলিক এসিডের অভাবজনিত রোগে। গর্ভাবস্থার ৩ মাস আগে থেকে ফলিক এসিড গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

মেডিকেল-ডেন্টালের সাবেক ছাত্রদলের নেতাদের ইফতার মাহফিল

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দেশসেবার সুযোগ লাভের শুকরিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোসহ গণতন্ত্র...

চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল প্রতিবেদন: ১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত

বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসায় অবহেলায় ৪ জনের মৃত্যু ও একজনের ভুল প্রতিবেদন দিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করার ঘটনায় ১০ চিকিৎসকের পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে...

Related Articles

ইরান যুদ্ধ: খাদ্য ও ওষুধ সংকটে পড়তে পারে কোটি মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের কাছে খাদ্য ও ওষুধ...

দেশে হামের ভয়াবহতা: দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু

দুই দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও * ২০ দিনে সন্দেহজনক...

ঢাকায় বাড়ছে গরম, তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৩৬ ডিগ্রি

ঢাকায় গরমের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি...

নারীর যোনিপথে শুষ্কতা: নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা

যোনিপথের শুষ্কতা (Vaginal Dryness) নারীদের একটি সাধারণ কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যসমস্যা। এটি...

স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

আরও চার শিশুর মৃত্যু ছড়িয়ে পড়েছে হাম * স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল *...

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২২ শিশুর মৃত্যু : হাম নয়, নেপথ্যে ‘সহ-রোগ’

হাম কি শুধুই একটি সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ, নাকি বড় কোনো বিপদের আগাম...

করোনা প্রকল্পে হরিলুট : সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জন দুদকের অনুসন্ধান

কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি সরঞ্জাম ও সেবা ক্রয়ের নামে ভয়াবহ অনিয়ম ও...