Home জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন শীতকালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার নিয়ন্ত্রণে করণীয়
জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুন

শীতকালে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার নিয়ন্ত্রণে করণীয়

Share
Share

শীতকালে অ্যাজমা ও আলার্জি রোগীদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। কেননা, অন্য মৌসুমের তুলনায় শীতকালে এসব রোগীদের বেশি ভুগতে হয়।দ্য আমেরিকান কলেজ অব অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজি (এসিএএআই) শীতে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার প্রকোপ থেকে বাঁচতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে।

ফ্লুর টিকা নিন: অ্যাজমা থাকলে আপনার জন্য এ পরামর্শটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হচ্ছে, অ্যাজমা ও ফ্লু উভয়েই শ্বাসতন্ত্রের রোগ। অ্যাজমা রোগীদের ফ্লু হলে তারা ঘনঘন তীব্র অ্যাজমা অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন, এমনকি জীবননাশক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।
নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন: এটা ঠিক যে শীতকালে বাইরের চেয়ে ঘরের অ্যালার্জেন দ্বারা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এ কারণে আপনার অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের অ্যালার্জি থাকলে প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। ডাস্ট মাইটের (ধুলোর কীট) মতো অ্যালার্জেন দূর করতে নিয়মিত ম্যাট্রেস ও বিছানা পরিষ্কার করতে হবে। ঘরের বেসমেন্ট ও বাথরুমের স্যাঁতসেতে জায়গায় ছত্রাকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পোষা প্রাণীর শরীর থেকে খসে পড়া আঁইশ, লালা ও মূত্রের একটি প্রোটিন অ্যালার্জিতে ভোগায় বলে শীতকালে এগুলোর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

ফায়ারপ্লেস থেকে দূরে থাকুন: শীতকালে ঠান্ডা তাড়াতে অনেকে বাইরের উন্মুক্ত স্থানে বিভিন্ন জিনিস বা আবর্জনা একত্রিত করে আগুন জ্বালিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের ফায়ারপ্লেস অ্যাজমা রোগীদের জন্য ভালো নয়। অগ্নিকূণ্ডের ধোঁয়া অ্যাজমা অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

হাত ধোয়ার প্রবণতা বজায় রাখুন: আপনার নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকলে ভালো, কিন্তু না থাকলে বাইরে থেকে ঘরে আসামাত্র হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ অভ্যাসে কোল্ড ও ফ্লুর ভাইরাস দূর হয়ে যায়। এসব ভাইরাস অ্যাজমা ও অ্যালার্জির উপসর্গকে আরো খারাপ করে। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি, যা আপনাকে বিভিন্ন মারাত্মক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

ফার্নেস ফিল্টার ব্যবহার করুন: ফার্নেস ফিল্টার ঘরের বাতাসের মান নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। ডিভাইসটি ঘরের ভেতরের অনাকাঙ্ক্ষিত নোংরা বা ধুলো দূর করে এগুলোর রিসার্কুলেটিং প্রতিরোধ করে। ঘরের বাতাস থেকে নোংরা বা ধুলোর পরিমাণ কমলে অ্যালার্জির প্রবণতাও কমে যায়। আপনার ঘরের বাতাস থেকে অ্যালার্জেন দূর করতে এমইআরভি-১১ বা ১২ ফিল্টার বেছে নিন। প্রতি এক থেকে তিন মাসে ফার্নেস ফিল্টার পরিবর্তন করা ভালো।

চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন: ঠিক কি কারণে আপনাকে অ্যালার্জি ও অ্যাজমার উপসর্গে ভুগতে হচ্ছে জানতে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে পারেন। টেস্টের মাধ্যমে চিকিৎসক ভোগান্তির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারেন এবং এ সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে সঠিক চিকিৎসা করতে পারেন।

Share

Don't Miss

রোগীর মন জয় করাই নার্সদের প্রথম দায়িত্ব : বিএমইউ উপাচার্য

রোগীর আস্থা অর্জন ও অসন্তুষ্টি দূর করাই একজন নার্সের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো....

মেডিসিন-ফিজিওথেরাপির সমন্বয়ে সম্মিলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আহ্বান

দেশে প্রতিবছর স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, পক্ষাঘাতগ্রস্ততা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শুধু হাসপাতালে ওষুধনির্ভর চিকিৎসা গ্রহণের পরও এসব রোগী অনেক...

Related Articles

নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের রোজায় যে সতর্কতা জরুরি

যাদের লো ব্লাড প্রেশার কিংবা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘ...

ওষুধ খাওয়ার ভুলে অসুস্থতা

জ্বর বা মাথাব্যথা হলেই প্যারাসিটামল, অ্যালার্জির জন্য হিস্টাসিন কিংবা গ্যাসের ট্যাবলেট- এই...

শিশুদের জন্য লবণ যতটুকু দরকার

অতিরিক্ত লবণ শিশুর বৃদ্ধিতে বাধা প্রদানের পাশাপাশি অল্প বয়সে রক্তচাপের ঝুঁকিতে ফেলতে...

ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কেন

বয়সে টিংকু বেশ ছোট। এত ছোট যে মাঝেমধ্যে টিংকুর দাঁত পড়ে। একবার...