নির্বাচিত

ওষুধ কী কাজ করে

Share
Share

আপনার শরীরের নিজে নিজে সুস্থ হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। যদি ঠিক হওয়ার জন্য সময় দেয়া হয় তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ অসুখগুলো সহজেই ভালো হয়ে যায়। আসলে শরীরের ভেতরের ফার্মেসি যে প্রেসক্রিপশন দেয় তা সবচে নিরাপদ ও কাজের। সুতরাং ধৈর্য ধরে, যত্নের সাথে নিজে নিজের খেয়াল করা, তদারকি করাটাই হচ্ছে আপনার বা আপনার ডাক্তারের জন্য চিকিৎসার চমৎকার একটা উপায়।

এটাও সত্যি যে, পুরনো অসুখের যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে ওষুধ একটা জরুরি অংশ। এসব ওষুধে অসুখ ভালো হয়ে যায় না। সাধারণত: নীচের উদ্দেশ্যগুলোর একটা বা দুটো কাজে এগুলো লাগে।

ক. রাসায়নিক ব্রিক্রিয়ার মাধ্যমে অসুখ কমাতে সাহায্য করে। যেমন- ব্রনকোডায়ালেটর ইনহেলার থেকে যে ওষুধ পাওয়া যায় তা শ্বাসের রাস্তাকে চওড়া করে। এতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়, বা একটি জিটিএন ট্যাবলেট রক্তের কনিকাকে চওড়া করে হার্টে বেশি রক্ত পাঠায়, এতে এনজিনার উপশম হয়।

খ. অন্যান্য ওষুধগুলো অসুবিধা বাড়তে বাধা দেয়। যেমন, যে ওষুধ রক্ত পাতলা করে সেটা রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এতে স্ট্রোক বা হার্টের সমস্যা দেখা দেয়।

গ. তৃতীয় আরেক ধরনের ওষুধ আছে যা অসুখের লক্ষণগুলো ভালো করে এবং অসুখের গতিকে ধীর করে দেয়। যেমন, নন-স্টেরয়ডাল এনটি-ইনফ্লেমেটরি মেডিসিন (এনএসএইডস) ব্যথা-বেদনা কমিয়ে আর্থরাইটিসের ক্ষেত্রে সাহায্য করে। একইরকম ভাবে, ডিজিটালিস নামের ওষুধ হার্টবিট শক্তিশালী করতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

ঘ. সবশেষে, এমন ওষুধ আছে যা শরীর যেসব উপাদান আর যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি করছে না সেগুলোর যোগান দেয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা এই কারণে ইনসুলিন ব্যবহার করে।

সবক্ষেত্রেই, ওষুধের উদ্দেশ্য হচ্ছে রোগের প্রভাবটাকে কমানো, বা এর গতিকে ধীর করে দেয়া বা অসুখ হতে বাধা দেয়া। ওষুধ কোনো কাজ করছে কিনা এটা হয়তো আপনি টের না পেতে পারেন। যেমন, একটা ওষুধ হয়তো অসুখের গতিকে কমিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আপনি হয়তো কোনকিছু টের পাচ্ছেন না। এতে আপনার মনে হতে পারে অসুখে কোন কাজ হচ্ছে না (যেমন, হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার ওষুধ)।

এজন্য আপনি যদি বুঝতে নাও পারেন কিভাবে কাজ হচ্ছে তবু আপনার ওষুধ বন্ধ না করাটা জরুরি। যদি এতে আপনার চিন্তা হয় তবে আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে বলুন। এজন্য আমাদেরকে অনেক মূল্য দিতে হয়। কাজে লাগলেও সব ওষুধেরই সাইড এফেক্ট বা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে, যা আমরা চাই না। কিছু কিছু সাইড এফেক্ট আছে বুঝা যায় এবং ছোট ধরনের, এবং কিছু আছে অপ্রত্যাশিত ও জীবনের জন্য হুমকি। হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি হয় তার 5% থেকে 10% হচ্ছে ওষুধের সাইড এফেক্ট বা রিএ্যাকশন (খারাপ প্রতিক্রিয়া)-এর জন্য।

Share this news as a Photo Card

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

ভারতে হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ আগুন, ১০ রোগীর মৃত্যু

ভারতের ওড়িশার কটক শহরের এসসিবি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের আইসিইউতে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ)...

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি হঠাৎ চালু করলে বিপদ হতে পারে

যে কোনো কারণেই হোক, অনেকদিন এসি বন্ধ থাকলে, ছাড়ার আগে সার্ভিসিং করানো জরুরি।

Related Articles

নবজাতকের জীবন রক্ষায় আশার আলো কেএমসি: বিএমইউ উপাচার্য

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আন্তর্জাতিক ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) সচেতনতা দিবস ২০২৬...

এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির এমডি হলেন আশরাফুজ্জামান

সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-এর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক...

মার্কস ফার্টিলিটি সেন্টারের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মার্কস ফার্টিলিটি সেন্টারের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে নারী ও বন্ধ্যাত্ব রোগীদের...

গর্ভকালীন জটিলতা: ১০টা প্রশ্নের সহজ উত্তর (Q&A)

গর্ভকালীন সময়ে অনেকেই বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন ও জটিলতা নিয়ে চিন্তায় থাকেন। কোনটা...

কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপে বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার মৃত্যু: আইএলও

কর্মক্ষেত্রের দুর্বলভাবে পরিকল্পিত ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট মনঃসামাজিক সংকটে প্রতিবছর বিশ্বে...

প্রবীণদের পুষ্টি নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর

“জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬” উপলক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, নিউট্রিশন সলিউশনস ও অর্গানিক...

বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট : প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে সম্পদের সীমাবদ্ধতার...

ঘুমের সমস্যা: ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি কি আসল কারণ?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ঘুমের সমস্যা অনেকের কাছেই খুব সাধারণ একটি বিষয় হয়ে...

০৬ মার্চ ২০১২

ওষুধ কী কাজ করে

Shastho.TV |
ShasthoTV
ShasthoTV