বিবিধ

বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা

Share
Share

বন্ধ্যত্ব শুধু সবসময় নারীদের সমস্যা নয়। নারী-পুরুষ উভয়েরই এ সমস্যাই হতে পারে।
যখন কোনো সক্ষম দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে একসঙ্গে থাকার পরও এক বছর এবং এর বেশি সময় সহবাস করা সত্ত্বেও সন্তান জন্মদানে ব্যর্থ হয় তখন সেই দম্পতিকে বন্ধ্যা এবং দম্পতির এই অবস্থাকে বন্ধ্যত্ব বলে। এই বন্ধ্যত্বের হার শতকরা ১০-১৫ ভাগ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ দায়ী, ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু মহিলা দায়ী, ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে উভয়েই দায়ী। আর ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো কারণ জানা নেই।

বন্ধ্যত্বের কারণ: একজন পূর্ণাঙ্গ রমণীর ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বাণু নির্গত হয়। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রজনন বয়স ধরা হলেও ৩৫ বছরের পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রজনন বয়সের শেষ দিকে ডিম্বাণু নিঃসরণ মাসে নাও হতে পারে। প্রজনন বয়সের মধ্যে প্রতি মাসেই প্রজনন মহিলার ২৮-৩৫ দিনের ব্যবধানে ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। নিয়মিত ঋতুস্রাব মহিলাদের নিঃসরণের একটি প্রমাণ। বন্ধ্যত্বের কারণ অগণিত। এর মধ্যে-

নারীর ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কারণগুলো হচ্ছে:

> ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের না হলে। (নিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে ডিম্বাণু নির্গত হয় মাসিকের ১২-১৫তম দিনে)।

> ডিম্বাণু নিঃসরণের আগে ও পরে কিছু কিছু হরমোন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নিঃসৃত হলে।

> ডিম্বনালি বন্ধ থাকলে (বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন—জরায়ুতে কোনো কারণে ইনফেকশন হলে)।

> জরায়ুতে টিউমার হলে।

> যৌনাঙ্গে যক্ষ্মা হলে।

> জরায়ুর মধ্যের আস্তরণ জরায়ুর ভেতরের অংশ ছিঁড়ে ডিম্বনালি, ডিম্বাশয় বা জরায়ুর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে।

> ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে।

> থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য হলে।

> ধুমপান, মদ্যপান করলে।

> অতিরিক্ত ওজন হলে।

পুরুষের ক্ষেত্রে:
> শুক্রাণু কম উত্পন্ন হলে।

> শুক্রাণু নির্দিষ্ট বেগে গতিশীল না হলে।

> শুক্রাণুর আকৃতি স্বাভাবিক না হলে।

> যৌনবাহিত রোগের কারণে।

> বয়সজনিত কারণে শুক্রাণুর সংখ্যা কম হলে।

> অণ্ডকোষে আঘাত লাগলে।

> শুক্রাণু বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকলে।

> ধূমপান, মদ্যপান করলে।

> ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে।

> নিয়মিত বিষণ্নতার ওষুধ খেলে।

> অতিরিক্ত ওজন হলে।

> গরমে একনাগাড়ে কাজ করলে বা টাইট আন্ডার গার্মেন্টস ব্যবহার করলে।

চিকিৎসা:
বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এই চিকিত্সা ধাপে ধাপে করতে হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই বন্ধ্যত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে হয়। বন্ধ্যত্বের কারণ জানাতে হয়। প্রয়োজনে উভয়েরই পরীক্ষা করতে হয়। আমাদের দেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। তাই হাতুড়ে ডাক্তার কিংবা কবিরাজের কাছে ধরনা দিয়ে সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

চিকিৎসকদের সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান ড্যাব মহাসচিবের

চিকিৎসা খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকদের সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব...

স্বাস্থ্যের নতুন ডিজি অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

Related Articles

ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন দুর্বোধ্য কেন হয়?

ডাক্তার বা চিকিৎসক পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্বস্ততা কিংবা নির্ভরতা। ফলে তাঁরা...

ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশসহ ৬ দেশ

বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত ছয় দেশে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার...

বিবাহিত পুরুষের বয়স বাড়ে ধীরে, মেয়েদের ব্যাপার আলাদা : গবেষণা

অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিত পুরুষদের বয়স ধীরে বাড়ে, তবে একই প্রভাব নারীদের ক্ষেত্রে...

বায়োনিক কান কি বাস্তব

ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে কৃত্রিম বা বায়োনিক কানের ধারণা বর্তমানে বাস্তব হয়ে উঠেছে।...

Intel CEO calls TSMC company, says the company is still waiting for CHIPS Act money

There is evidence that the food industry designs ultra-processed foods to be...

Ford to lower managers’ bonuses if company performance fails to improve, sources say

There is evidence that the food industry designs ultra-processed foods to be...

I used headset that made me feel like I’m living in the future

There is evidence that the food industry designs ultra-processed foods to be...