Home স্বাস্থ্য সংবাদ কিডনি ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত উপসর্গ দেখা যায় না
স্বাস্থ্য সংবাদ

কিডনি ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত উপসর্গ দেখা যায় না

Share
Share

কিডনি রোগকে নীরব ঘাতক বলা হয়, কারণ কিডনির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই জরুরি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক প্রফেসর ডা. আছিয়া খানম।

রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উদ্যোগে উইমেন ইন নেফ্রোলজি শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় দেশের খ্যাতনামা সাতজন নারী কিডনি বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন।

কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে কিডনি ফাউন্ডেশনের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারনাজ নবি রিমা বলেন, শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, তরল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য কিডনির যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

নারীদের মধ্যে সাধারণ একটি সমস্যা হিসেবে ইউরিন ইনফেকশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. সেলিনা আক্তার বলেন, বারবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এ ধরনের সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)-এর দিকে গড়াতে পারে।

গর্ভাবস্থা সম্পর্কিত ঝুঁকির বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাধবী কর্মকার বলেন, গর্ভাবস্থাজনিত কিছু জটিলতা যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে তা কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর অবস্থার দিকে যেতে পারে।

বারডেমের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহরুবা আলম অনন্যা বলেন, কিডনি ফেইলিউর থাকলে গর্ভাবস্থায় নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

নারীদের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় মেনোপজের প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসালটেন্ট ডা. মারজোয়া হুমায়রা মেখলা বলেন, মেনোপজের পর হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে নারীদের মধ্যে CKD-এর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই এ সময় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

ল্যাবএইডের কনসালটেন্ট ডা. নওরীন আমিন গুলশান বলেন, অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ওষুধ সেবন করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হলে পরিবার ও সমাজও সুস্থ থাকে। তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং সকলের জন্য সমান চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ দেশে নারী নেফ্রোলজিস্টদের নেতৃত্ব ও অবদানকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মত প্রকাশ করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সামিয়া নাজ।

Share

Don't Miss

রোগীর মন জয় করাই নার্সদের প্রথম দায়িত্ব : বিএমইউ উপাচার্য

রোগীর আস্থা অর্জন ও অসন্তুষ্টি দূর করাই একজন নার্সের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো....

মেডিসিন-ফিজিওথেরাপির সমন্বয়ে সম্মিলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আহ্বান

দেশে প্রতিবছর স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, পক্ষাঘাতগ্রস্ততা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শুধু হাসপাতালে ওষুধনির্ভর চিকিৎসা গ্রহণের পরও এসব রোগী অনেক...

Related Articles

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিসিএস হেলথ ফোরাম নেতাদের সাক্ষাৎ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন...

মঙ্গলবার থেকে সব মেডিকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত...

‘নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে’

দেশের জনগনের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য (ই-হেলথ) কার্ড চালু করা হবে। বিশেষভাবে স্থানীয়...

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য এফ এম সিদ্দিকী

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. এফ...