দেশের জনগনের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য (ই-হেলথ) কার্ড চালু করা হবে। বিশেষভাবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকারে এমন অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকরা তুলে ধরছেন।
রবিবার (৮ মার্চ) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য কার্যকর অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি নীতিগত সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার এবং ইউএইচসি ফোরাম। এতে সহায়তা করে ইউনিসেফ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা সরকারের প্রতিশ্রুতি। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা এবং সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশিপ শক্তিশালী করা। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ক্রমশ গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে আরও জনমুখী স্বাস্থ্যনীতির দিকে এগোচ্ছে। যদি আমরা ক্ষমতা ও অংশগ্রহণকে একত্রিত করতে পারি, তবে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বাস্তব ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে আনা খুবই জরুরি। স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার অগ্রগতিতে সরকার, গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রয়োজন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সমতা, পুষ্টি এবং অসংক্রামক রোগপ্রতিরোধে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন। কেবল আর্থিক বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না। মানুষকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি যত্নশীল মানসিকতার বিকাশও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসন জোরদার করা জরুরি।
আলোচনায় বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অগ্রগতির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার বিষয় সামনে আসে। অংশগ্রহণকারীরা কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বক্তব্যে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণকে কার্যকরভাবে নীতিনির্ধারণে ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

