নির্বাচিতস্বাস্থ্য সংবাদ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাময়ের বদলে চলে নির্যাতন!

Share
Share

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ শতাধিক মাদকসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্র। রোগীদের নির্যাতন করাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো মানসিক সমস্যায় ভোগেন রোগীরা।

ছদ্মনামের জসিম গাঁজা ও ইয়াবা আসক্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এর আগে কয়েকবার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা উল্টো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ভুক্তভোগী জসিম বলেন, ‘পিলারের সাথে হাত বেঁধে আমাকে মারছিল। টর্চার করেছে দেড় মাস পর্যন্ত।’

রনির অবস্থাও একই। কেরানীগঞ্জের ফিউচার নামে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তির পর মারধরের শিকার হয়েছেন। পাননি নিয়মিত কাউন্সিলিং ও চিকিৎসা।

ভুক্তভোগী রনি বলেন, ‘শুধু শুধু মারধর করতো। আমাকে টানা ওষুধ দিয়েছে। ওষুধ খাইলে শুধু ঘুম আসতো আর হা করে থাকতাম।’

এরপর কেরাণীগঞ্জের ঘাটারচরে ফিউচার নামের ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে যায় সময় সংবাদ। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন লাইসেন্স বিহীন চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। ১০ দিন আগে হঠাৎই কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়।

সূত্র বলছে, রাজধানীসহ সারাদেশে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতাধিক। যেখানে রোগীদের চিকিৎসার পরিবর্তে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়। আর অনুমোদিত মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের সংখ্যা ৩২৪টি হলেও এর বেশিরভাগই মানে না নিয়ম। ১০ জনের বিপরীতে একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রই তা মানছেনা। তবে বৈধ মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের মালিকরা বলছেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ডের দায় নিতে হয় তাদেরও।

সেফ হোম মাদকাসক্তি পুর্নবাসন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক লুৎফর রহমান মানিক বলেন, ‘কিছু কিছু অবৈধ সেন্টার একই ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে সবাইকে। এটার ফলে রোগী রিঅ্যাক্ট করছে সে সাথে রোগীর ভালো হওয়ার রেশিও কমে যাচ্ছে।’

তবে নিয়মের বাইরে কোনো মাদকাসক্ত চিকিৎসাকেন্দ্র চললে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, নামই হচ্ছে নিরাময়কেন্দ্র সেখানে কেন নির্যাতন করবে, এটা কখনই কেউ চাই না। এটা যারা করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং হবে।’

সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এমন চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে আসেন রোগীরা। তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাভাবিক জীবন তো দূরের কথা মাসের পর মাস থাকতে হয় এক অমানবিকতার মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজনদারি আরো বাড়ানো গেলে এসব কেন্দ্রে যেমন নিরাময় হবে, তেমনি রোগীদের দ্রুত সারিয়ে তোলাও সম্ভব।
সুত্র: সময় টিভি

Share

Don't Miss

প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লায়লা আরজুমান্দ আর নেই

বাংলাদেশ পেরিনেটাল সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও দেশের অন্যতম প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক (মেজর) ডা. লায়লা আরজুমান্দ বানু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না...

ঢামেক আইডিএসের নতুন সভাপতি ডা. ফয়সাল, সম্পাদক ডা. নাবিল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির (আইডিএস) নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মোস্তফা আমীর ফয়সাল, আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডা. নাবিল...

Related Articles

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২২ শিশুর মৃত্যু : হাম নয়, নেপথ্যে ‘সহ-রোগ’

হাম কি শুধুই একটি সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ, নাকি বড় কোনো বিপদের আগাম...

করোনা প্রকল্পে হরিলুট : সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জন দুদকের অনুসন্ধান

কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি সরঞ্জাম ও সেবা ক্রয়ের নামে ভয়াবহ অনিয়ম ও...

ঢামেকসহ ৫ মেডিকেল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ

ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ (ঢামেক) দেশের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ...

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি হলেন অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হয়েছেন প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক...

রাজধানীর ‘ডক্টরস কেয়ার’ হাসপাতাল সিলগালার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রাজধানীর শ্যামলী ও কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত ‘ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক’...

সালেহা-আমিন ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সালেহা-আমিন ফাউন্ডেশন-এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বসুরহাট...

নতুন ১০টি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দিচ্ছে সরকার

রাজনৈতিক সুপারিশে আবারও নতুন করে ১০টি মেডিকেল কলেজ অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।...