গরম পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর অনেকেই এসিও চালু করছেন। তবে কয়েক মাস বা অনেকদিন বন্ধ থাকা এসি হঠাৎ চালু করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এতে ঠাণ্ডা কম আসে, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়, এমনকি হঠাৎ বড় যান্ত্রিক সমস্যা বা দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
আশরাফ খান সৈকত, যিনি ঢাকার আদাবরে এসি সার্ভিসিং করেন, বলেন, “শীতে এসি বন্ধ থাকলে ফিল্টারে ধুলা জমে, ইনডোরে পোকামাকড় বাসা বাঁধে, কখনও টিকটিকি মরে থাকে।”
“সার্ভিসিং ছাড়া চালু করলে সার্কিট পুড়ে যেতে পারে, ঘরে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। গরমের শুরুতে ‘প্রি-চেকআপ’ বা ‘প্রি-ক্লিনিং’ করালে এসির পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ থাকে। বিদ্যুৎ বিলও কম আসে”- মন্তব্য করেন তিনি।
যে কারণে সার্ভিসিং জরুরি
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এসিতে নানান সমস্যা তৈরি হয়। ফিল্টারে ধুলা জমে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ‘ইনডোর ইউনিটের’ কুলিং কয়েল ও ব্লোয়ার ফ্যানে ময়লা জমে ঠাণ্ডা কমে যায়।
আউটডোরে পাতা-ধুলো-পাখির বাসা জমে তাপ বের হওয়া ব্যাহত হয়।
রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস কমে যেতে পারে। ড্রেন পাইপ ব্লক হয়ে পানি ঘরে পড়ে।
পিসিবিতে পিঁপড়া বা টিকটিকি মরে থাকলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে।
এসব কারণে সার্ভিসিং না করলে কম্প্রেসরের ওপর চাপ বাড়ে, এসির আয়ু কমে যায়।
এসি চালুর আগে যেসব কাজ করাতে হবে
এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা বদলানো জরুরি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে ফিল্টারে ধুলো-ময়লা-জীবাণু জমে। এতে বাতাস চলাচল বাধা পায়, ঠাণ্ডা কম আসে, গন্ধ ছড়ায়। ফিল্টার খুলে পানির ঝাপটা দিয়ে পরিষ্কার করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন লাগতে হবে।
ইনডোর ইউনিটের গভীর পরিষ্কার করা জরুরি। কুলিং কয়েল ও ব্লোয়ার ফ্যানে ধুলা জমলে ঠাণ্ডা কমে, বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। ব্যাক্টেরিয়া-ছত্রাক জমতে পারে। টেকনিশিয়ান দিয়ে প্রেশার ওয়াশারে পরিষ্কার করান।
আউটডোর ইউনিট পরীক্ষা ও পরিষ্কার করা উচিৎ। খোলা জায়গায় থাকায় পাতা-ধুলো-পাখির বাসা জমে। তাপ বের হওয়া ব্যাহত হয়। কনডেনসার, ফ্যান পরিষ্কার করাতে হয়।
রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লেভেল পরখ করতে হবে। গ্যাস কমে গেলে ঠাণ্ডা কম আসে, কম্প্রেসরের ওপর চাপ পড়ে। গ্যাস ‘লিক’ আছে কি-না, দেখাও জরুরি। প্রয়োজনে রিফিল করাতে হবে।
ড্রেন পাইপে শ্যাওলা-ময়লা জমে ব্লক হয়ে পানি ঘরে পড়ে। পাইপ পরিষ্কার করালে এই ঝামেলা এড়ানো যায়
বৈদ্যুতিক সংযোগ ও রিমোট পরখ করতে হবে। তার ঢিলা থাকতে পারে বা শর্ট সার্কিট হতে পারে। রিমোটের ব্যাটারি পরখ করুন। সার্ভিসিংয়ের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট চালিয়ে দেখতে হয়— ঠাণ্ডা ঠিক আছে কি-না। শব্দ অস্বাভাবিক কি-না, পানি পড়ছে কি-না।
কত সময় পরপর সার্ভিসিং করাতে হয়
বাসায় দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা চললে বছরে দুবার— গরমের শুরুতে ও মাঝামাঝি সময়ে করানো উচিত। রাস্তার পাশে হলে বাড়তি সার্ভিসিং লাগে। অফিস-বাণিজ্যিকে তিন-চার মাস পরপর সার্ভিসিং করাতে হয়।
সার্ভিসিংয়ের ধরন
বেসিক ক্লিনিং: নিজে করা যায়, ফিল্টার পরিষ্কার করা।
মাস্টার ক্লিনিং: টেকনিশিয়ান দিয়ে— প্রেশার ওয়াশারে গভীর পরিষ্কার।
ডাউন সার্ভিস: ওয়ার্কশপে— ইউনিট খুলে প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরিষ্কার।
খরচ কত
আশরাফ খানের তথ্যানুসারে- বেসিক ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। মাস্টার সার্ভিসিং আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। গ্যাস রিফিল ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।
ব্র্যান্ড সার্ভিস সেন্টারে ওয়ারেন্টি থাকলে বিনামূল্যে বা কম খরচে হয়।

