‘একসাথে হাত ধরি, গ্লুকোমা মুক্ত বিশ্ব গড়ি’ স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (সিইআইটিসি) পালিত হচ্ছে বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬।
মঙ্গলবার সকালে সিইআইটিসি প্রাঙ্গণে সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে এ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “গ্লুকোমা চোখের নীরব ঘাতক রোগ। বিরাট জনগোষ্ঠী গ্লুকোমা রোগের নামই শোনেনি। গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল রোগ, যাতে ধীরে ধীরে দৃষ্টি কমে যায়। এমনকি এক সময় রোগী অন্ধত্ববরণ করতে বাধ্য হয়।
“সময়মত পরীক্ষা ও চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই গ্লুকোমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।”
এর আগে হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে চোখের গ্লুকোমা নির্ণয় ও প্রতিরোধের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনার হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে হাসপাতালের গ্লুকোমা বিভাগের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ মারাত্মক দৃষ্টিনাশী রোগ গ্লুকোমা। ৫০ শতাংশ মানুষ জানেন না তার গ্লুকোমা আছে।
“বিশেষ কোনো উপসর্গ থাকে না বলে বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগী বুঝতে পারেন না এর উপস্থিতি। বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগী আসেন অন্ধত্বের কাছাকাছি সময়ে। তখন বেশি কিছু করার থাকে না। নীরবে চোখকে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায় বলে গ্লুকোমাকে নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়।”
তিনি বলেন, “গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মত সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।”
অন্যদের মধ্যে হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ, কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর, অ্যাসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

