জেনে রাখুন, সুস্থ থাকুননারী স্বাস্থ্যনির্বাচিত

নারীর নীরব ঘাতক এন্ডোমেট্রিওসিস: লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

Share
Share

আমাদের মেয়েদের জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম যেখানে ভ্রুন প্রতিস্থাপিত হয়ে ধীরে ধীরে বাচ্চা বেড়ে ওঠে এবং অন্য সময় ঋতুকালীন সময়ে হরমোনের প্রভাবে এই স্তর এর গ্রন্থি এবং টিস্যু থেকে ব্লিডিং হয় (shadding) হয় যেটাকে ঋতুস্রাব (menstruation) বলা হয়।

জরায়ু ছাড়া অন্য কোথাও এই স্তর সস্বাভাবিক নিয়মে থাকবেনা।
এটি প্রজনন বয়সী সকল মেয়েদের সস্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।

এখন “এন্ডোমেট্রিওসিস” নামক অসুখ হলে জরায়ুর ভেতরের এই লেয়ারটা জরায়ুর বাইরে অন্যান্য অনেক জায়গায় প্রতিস্থাপিত হয় যেমন ডিম্বাশয় (সবচে কমন স্থান), ফেলোপিয়ান টিউব, জরায়ুর মাংস্পেশির স্তরে,পেলভিক লিগামেন্ট গুলো, রেকটাম (পায়খানার থলি ), ব্লাডার (প্রস্রাবের থলি),এমনকি ফুসফুসের ভেতর, নাকের মিউকাসের মধ্যে!!

প্রতিমাসে মাসিকের সময় যেখানে যেখানে এই এন্ডোমেট্রিয়াম এর টিস্যু আছে সেসব জায়গায় হরমোনের প্রভাবে ব্লিডিং হয় কিন্তু সেই ব্লিডিং বের হতে পারেনা।
এভাবে প্রতিমাসে ওই জায়গাগুলোতে ব্লিডিং হয়ে ব্লাড জমতে থাকে। জমতে জমতে একধরনের সিস্ট তৈরি হয় যেটাকে “এন্ডোমেট্রিওটিক সিস্ট /চকোলেট সিস্ট /এন্ডোমেট্রিওমা বলা হয়।

এক্টা অসঅস্বাভাবিক জায়গায় রক্ত জমা হওয়ার কারনে সেই জায়গাগুলোতে প্রতিমাসে মাসিকের সময় ব্যাথা হয়। যেহেতু সবচেয়ে কমনলি এফেক্টেড হয় ডিম্বাশয় /ওভারি ; তাই ধীরে ধীরে ওভারি থেকে ফলিকল / ডিম নষ্ট হতে থাকে এবং এক পর‍্যায়ে পর‍্যাপ্ত ফলিকলের অভাবে বাচ্চা হতে জটিলতা তৈরী হয়। পাশাপাশি তীব্র পেটে ব্যাথা!!
সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থা শোচনীয় পর‍্যায়ে যেতে থাকে। এটা ক্যান্সার না এই অসুখে কেউ মারাও যায়না কিন্তু ধীরে ধীরে রোগীর কোয়ালিটি অব লাইফ জীবনযাত্রার মান খারাপ হতে থাকে।
সমাজিক মানসিক পারিবারিক শারিরীক প্রেশার!

প্রতিকার কি?
এধরণের উপসর্গ যাদের আছে বিলম্ব না করে দ্রুত গাইনি চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। সঠিক চিকিৎসা পেলে এই অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কিন্তু নিয়ন্ত্রণে না রাখলে এটা ধীরে ধীরে ছড়াতে থাকবে এবং দুরভোগ বাড়বে।
বন্ধ্যাত্ব রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারন হলো এন্ডোমেট্রিওসিস।

প্রতিরোধ কিভাবে করা যায়?
সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন।
মাসিকের সময় পেটে ব্যাথা, অনিয়মিত মাসিক, বেশি রক্তপাত এসব উপসর্গ পেলে দ্রুত গাইনি বিশেষজ্ঞ র পরামর্শ নিতে হবে।

লেখক: ডা. নুসুর আক্তার
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনি ও প্রসুতি বিদ্যা বিভাগ )
অবসটেট্রিশিয়ান গাইনোকলজিস্ট ও সার্জন

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

‘কনসিভ করার পর জানতে পারি স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে’

প্রশ্ন: আমার বয়স ২৭ বছর। কনসিভ করার পর জানতে পারি স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছি, সে জানিয়ে দিয়েছে...

‘নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে’

দেশের জনগনের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য (ই-হেলথ) কার্ড চালু করা হবে। বিশেষভাবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আমাদের অগ্রাধিকার বলে...

Related Articles

১২ এপ্রিল থেকে শুরু ঢাকায় হামের বিশেষ টিকাদান

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা...

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে

আজ ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল...

বিএমইউতে যোগ দিলেন নবনিযুক্ত ভিসি

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী দায়িত্ব...

ইরান যুদ্ধ: খাদ্য ও ওষুধ সংকটে পড়তে পারে কোটি মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের কাছে খাদ্য ও ওষুধ...

ঢাকায় বাড়ছে গরম, তাপমাত্রা ছুঁয়েছে ৩৬ ডিগ্রি

ঢাকায় গরমের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি...

নারীর যোনিপথে শুষ্কতা: নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা

যোনিপথের শুষ্কতা (Vaginal Dryness) নারীদের একটি সাধারণ কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত স্বাস্থ্যসমস্যা। এটি...