নির্বাচিত

মরণোত্তর চক্ষুদানে এখনও বাধা কুসংস্কার

Published

on

দেশে কুসংস্কারের কারণে এখনও মরণোত্তর চক্ষুদান কর্মসূচি গতিশীল হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বছরে এক থেকে দেড় হাজার কর্নিয়া আসে মরণোত্তর দান থেকে, কিন্তু সমাজে মরণোত্তর চক্ষুদান নিয়ে অনেক কুসংস্কার রয়েছে। যার কারণে এখনও মানুষ এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে থাকে।

সোমবার (৬ মে) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক বলেন, দেশের মানুষের চোখের কর্নিয়া দান করার ব্যাপারে কুসংস্কার কাজ করে। মানুষ মনে করে পুরো চোখ উঠিয়ে ফেলবে, চেহারা বিকৃত হবে, যা আত্মীয়স্বজনরা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু বিষয়টা এমন নয়। চোখের কর্নিয়া নিলে চেহারা বিকৃত হয় না। মাত্র ১০ মিনিটে কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়। তবে মানুষ এখন আস্তে আস্তে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পতাকার অন্যতম নকশাকার শিব নারায়ণ দাশ কর্নিয়া দান করে গেছেন। তার দেহও দান করে গেছেন। তার এক চোখের কর্নিয়া চাঁদপুরের মশিউর রহমানের চোখে প্রতিস্থাপন করেছি। অন্য চোখের কর্নিয়া রংপুরের আবুল কালামের চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। শিব নারায়ণকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন। আইসিইিতে ছিলেন। আমরা সেবা দিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যায়ে তাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। মৃত্যুর পর আমরা চোখের কর্নিয়া গ্রহণ করি। এমনকি তার দেহটাও।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে শ্রীলঙ্কা, নেপাল থেকে কর্নিয়া আসে। তবে অনেকসময় কর্নিয়া পাওয়া যায় না। তাই আমাদের জন্য একটা শক্তিশালী ব্যাংক প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সন্ধানী খুবই ভালো কাজ করছে।

Advertisement

 

এ সময় সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিলাল আইচ লিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিসহ অসংখ্য বড় বড় মানুষ মরণোত্তর চক্ষু দানের জন্য অঙ্গীকার করেছেন। এটা আমাদের জন্য সম্মানের। এতে করে অসংখ্য মানুষ মরণোত্তর চক্ষু দানে উৎসাহিত হবেন। এমনকি কর্নিয়া দান কার্যক্রমও এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, অনেকেই শুরুতে চোখ দানে আগ্রহী হোন, পরে যখন আমরা চক্ষু সংগ্রহ করতে যাই, তখন আর তাদের পরিবার দিতে চান না। কিন্তু শিব নারায়ণ দাশের ছেলে নিজ থেকে আমাদের কাছে এসেছেন এবং চক্ষু দানে সহযোগিতা করেছেন। শিব নারায়ণ দাশের মতো এমন ক্ষণজন্মা মানুষের আরও অনেক জন্ম হোক।

দানকৃত চোখ থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করেছেন বিএসএমএমইউর চিকিৎসক রাজশ্রী দাশ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শিবনারায়ণ দেশকে একটি লাল-সবুজের পতাকা দিয়েছেন। মৃত্যুর পর তার দেহ ও চোখ দুটোও দান করেছেন। মরণোত্তর চক্ষু দানে মহত্ত্ব আছে।

রাজশ্রী দাশ আরও বলেন, দেশে কর্নিয়া দান নিয়ে এখনও ধর্মীয় একটা প্রতিবন্ধকতা আছে। ইরান- সৌদি আরবের ৫/৬ হাজার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ১ থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত কর্নিয়া প্রতিস্থাপন হয়। এই সংখ্যাটা খুবই কম।

Advertisement

চোখের আলো ফিরে পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মশিউর রহমান ও আবুল কালাম। মশিউর রহমান বলেন, আগের থেকে ভালো দেখতে পাচ্ছি। আমার চোখে সমস্যা ছিল জন্ম থেকেই। শিবনারায়ণ দাশের পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই। চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ভালো লাগছে। দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি ফিরে পেলে দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করব।

অন্যদিকে আবুল কালাম বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে বাম চোখে দেখতাম না। কর্নিয়া লাগানোর পর এখন দেখতে পাই। আমার ভালো লাগছে খুব। অপারেশনের আগে চোখে নানান সমস্যা ছিল। এখন নেই। সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে অপারেশন হয়েছে আমার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— শিবনারায়ণ দাশের স্ত্রী গীতশ্রী চৌধুরী ও তার ছেলে অর্ণব আদিত্য দাশ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ছায়েফ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান।

Trending

Exit mobile version