প্রধান খবরস্বাস্থ্য সংবাদ

দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি!

Share
দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী ও পুরুষ
Share

বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি! যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী ও পুরুষের হার প্রায় সমান বা কাছাকাছি হলেও বাংলাদেশে চিত্রটা ভিন্ন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৬১ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারী ও পুরুষ প্রায় সমান সমান, বা সামান্য কমবেশি হবে। সমাজ বাস্তবতার কারণে এই শ্রেণির নারীদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। অনেক নারী নিজেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে চান না। আবার অনেকে বলছেন, নারী-পুরুষের শতকরা হারে তফাতের আরও একটি বড় কারণ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বেশি পুরুষ।’

জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চিত্র এবং আন্তর্জাতিক চিত্র অনুযায়ী নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির হার প্রায় সমান, কিংবা সামান্য কমবেশি হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের শতকরা হারে পুরুষ বেশি। যা প্রকৃত চিত্র নয় বলে আমাদের মনে হয়েছে। সামাজিক নানা কারণে নারীরা নিজেদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি। অনেক নারী বা তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি আড়াল করতে চাচ্ছেন। এখানে অসচেতনতাই প্রধান কারণ। সে জন্য আমরা সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।’

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচির পরিচালক ফরিদ আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘ওইসব ব্যক্তির শনাক্তকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে বেশি পুরুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসাবে পুরুষের সংখ্যা বেশি হওয়া অন্যতম একটি কারণ। অসচেতনতাসহ অন্যান্য কারণ তো রয়েছেই। তবে সরকারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভাতা দেওয়ার কারণে এখন অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এই শ্রেণির ব্যক্তি হিসেবে হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন।’

ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সরবরাহ করা তথ্যে জানা গেছে— তীব্র, মাঝারি ও মৃদু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী—মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্বে পুরুষ ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নারী ৩৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে শূন্য থেকে ১৪ বছরের মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ২ দশমিক ৯ শতাংশ আর নারী ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৫ থেকে ৫৯ বছরের মানুষের মধ্যে পুরুষ ১২ দশমিক ৩ শতাংশ আর নারী ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। ৬০ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ আর নারী ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

আফ্রিকায় শূন্য থেকে ১৪ বছরের মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ আর নারী ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৫ থেকে ৫৯ বছরের মানুষের মধ্যে পুরুষ ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ আর নারী ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। ৬০ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৫২ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারী ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

আমেরিকায় শূন্য থেকে ১৪ বছরের মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ আর নারী ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৫ থেকে ৫৯ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে পুরুষ ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ আর নারী ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ৬০ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ আর নারী ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শূন্য থেকে ১৪ বছরের মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ আর নারী ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ১৫ থেকে ৫৯ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে পুরুষ ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ আর নারী ১৮ শতাংশ। ৬০ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী মোট বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে পুরুষ ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৬০ দশমিক ১ শতাংশ।

এছাড়া ইউরোপ, ভূমধ্য পূর্ব এলাকা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার চিত্রেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান অথবা সামান্য কমবেশি। অথচ বাংলাদেশে পুরুষ বেশি দেখা যাচ্ছে।

এসব চিত্রের বিপরীতে বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি। অথচ অনেক দেশে নারীর চেয়ে পুরুষ কম। বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৮ জন। এরমধ্যে নারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১১ লাখ ৫২ হাজার ৮১৬ জন। অপরদিকে পুরুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ১১ হাজার ৭৭ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৭৫ জন। হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট প্রতিবন্ধীর মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Share

সর্বশেষ সংবাদ

Don't Miss

ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির পক্ষ থেকে নতুন মহাপরিচালককে ফুলের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। গত ১২ মার্চ...

জিন নয়, দীর্ঘায়ু নির্ধারণে বেশি প্রভাব ফেলে খাদ্যাভ্যাস: গবেষণা

দীর্ঘজীবন অনেকেই ভাগ্য বা বংশগত জিনের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করেন। অনেকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারে সবাই আগে মারা গেছে, তাই আমারও তাড়াতাড়ি যাওয়ার...

Related Articles

কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপে বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার মৃত্যু: আইএলও

কর্মক্ষেত্রের দুর্বলভাবে পরিকল্পিত ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট মনঃসামাজিক সংকটে প্রতিবছর বিশ্বে...

প্রবীণদের পুষ্টি নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর

“জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬” উপলক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, নিউট্রিশন সলিউশনস ও অর্গানিক...

বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট : প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে সম্পদের সীমাবদ্ধতার...

দেশে প্রথম নভো নরডিস্কের আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজের উৎপাদন শুরু করল এসকেএফ

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি এসকেএফ প্রথমবারের মতো দেশে নভো নরডিস্কের বিশ্বমানের আধুনিক...

স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি রোধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার...

ঢাকার দুই সিটিতে টিকা দেওয়া হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এই দুই সিটিতে...

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে ৫০

প্রতিদিনই বাড়ছে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। চলতি বছরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ...

৬৬ শতাংশ যুবক জানেনই না শরীরে ডায়াবেটিস বহন করছেন

প্রথাগতভাবে ডায়াবেটিসকে প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটি শিশু, কিশোর...