নির্বাচিত

সংসদে বিএনপির ১০ ও জামায়াতের ৪ চিকিৎসক

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ১৩ জন চিকিৎসক লড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন ২০ জন চিকিৎসক। তাদের মধ্যে চারজন বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)’-এর ব্যানারে রাজনীতি করতেন যেসব চিকিৎসক, তাদের মধ্যে দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির ডা. আব্দুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে ডা. ইকরামুল বারী টিপু ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গাজীপুর-৩ আসনে ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ময়মনসিংহ-৭ আসনে প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ৯৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়েছেন। গোপালগঞ্জ-২ আসনে ডা. কেএম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। হবিগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭১ ভোট। সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ডা. এমএ মুহিত ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নেত্রকোনা-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মো. আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ন্যাশনাল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এনডিএফ)’-এর ব্যানারে রাজনীতি করতেন যেসব চিকিৎসক তাদের মধ্যে ২০ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে চারজন বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। কুমিল্লা ১১ থেকে জয় পেয়েছেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। যশোর-২ আসনে ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) থেকে জয় পেয়েছেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল বারী সরদার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট।

এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-পন্থি ১২ জন চিকিৎসক অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের তৎকালীন সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন টেকনোক্র্যাট কোটায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এবারের নির্বাচনে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে স্বাস্থ্য খাতে বিএনপির ইশতেহারে ২২ দফা ঘোষণা তুলে ধরা হয়। ঘোষণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক নাগরিককে একটি ইলেকট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড প্রদান ও বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ ভাগ হবেন নারী। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবাকে সবার অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে ইশতেহারে ৩৭ দফা স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনি ইশতেহারে বিনামূল্যে চিকিৎসা, জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়।

Trending

Exit mobile version