স্বাস্থ্য সংবাদ

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীদের অসন্তোষ

॥ মিজান রহমান ॥  পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন রোগী। আর ভর্তি থাকে ৭ শতাধিক। সে তুলনায় চিকিৎসকসহ জনবল ও চিকিৎসাসুবিধা তেমন বাড়েনি। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় মানসম্পন্ন সেবা পায় না বলে অভিযোগ রোগীদের। গত সোমবার সকালে মেডিসিন […]

Published

on

॥ মিজান রহমান ॥  পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন রোগী। আর ভর্তি থাকে ৭ শতাধিক। সে তুলনায় চিকিৎসকসহ জনবল ও চিকিৎসাসুবিধা তেমন বাড়েনি। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় মানসম্পন্ন সেবা পায় না বলে অভিযোগ রোগীদের।

গত সোমবার সকালে মেডিসিন বহির্বিভাগের সামনে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। লাইনে দাঁড়ানো রোগী মুরাদ (২২) বলেন, এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, ভেতরে যেতে পারছি না। একই কথা বললেন আরেক রোগী। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

১৯৮৫ সালে মিটফোর্ড হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তখন প্রথম শ্রেণীর পদ ছিল ১১৭টি। বর্তমানে প্রথম শ্রেণীর পদ ২২৯টি। দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ যা ছিল, এখনো তা-ই আছে।

তৃতীয় শ্রেণীর পদ ছিল ১২০টি, বেড়ে হয়েছে ১২২টি। নার্সের পদ ছিল ১৭৯টি, এখনো তাই আছে। চতুর্থ শ্রেণীর ৪৬১ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো ১২টি। ১৯৮৫ সালের আগ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে হাসপাতালের একটি ভবনে দুটি ভিআইপি ও ১৮টি সাধারণ কেবিন ছিল। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা বসবাস শুরু করলে কেবিন তুলে দেওয়া হয়।

ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চিকিৎসকেরা একপর্যায়ে ভবন ছেড়ে দিলে কর্মচারীরা থাকা শুরু করেন। ২০০৬ সালে কর্তৃপক্ষ কেবিনের ভবনের জায়গায় নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের জন্য আবাসিক হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৭ বছর ধরে এই হাসপাতালে কোনো কেবিন নেই।

Advertisement

৬০০ শয্যার মিটফোর্ড হাসপাতালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৪০টি ভাড়া শয্যা থাকার কথা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিসিন বিভাগে ৩২টি, গাইনি বিভাগে ৮টি, নাক-কান ও গলা বিভাগে ১১টি, চক্ষু বিভাগে ৭টি, শিশু বিভাগে ১৮টি, সার্জারি বিভাগে ২৪টিসহ মোট ১০০টি ভাড়ার শয্যা রয়েছে। শুরু থেকে হাসপাতালে ১১ তলা ভবনের নিচতলায় ক্যাজুয়ালটি ও জরুরি বিভাগের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়।

গুরুতর আহত রোগী হাসপাতালে ঢুকলে তাদের চিকিৎসা না দিয়ে অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ আছে। এখানে এমআরআই পরীক্ষা করাতে খরচ হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা। একই পরীক্ষা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে করালে খরচ পড়ে ছয় থেকে আট হাজার টাকা। অথচ প্রায় সময়ই এমআরআই যন্ত্রটি নষ্ট থাকে।

হাসপাতালের উপপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল হাসেম খান বলেন, হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ও জনবল বাড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Trending

Exit mobile version